সেনাবাহিনীর তরফ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশে যা হচ্ছে সেটা অগ্রহণযোগ্য। ড. ইউনূস পালটা একমাস সময় চেয়েছে। বাহিনীর তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার এক মাস সময় পাবে কি না, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। গত সোমবার সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান দেখা করেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনূস এবং রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে।
বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছেন, সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্তাকে ইউনূস বলেছেন, ‘আপনাদের সহযোগিতা করতে এসেছিলাম। আপনারা অনৈক্য বিভেদের মধ্যে দিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তা আমাকে পীড়া দেয়। এই পীড়া আমাকে বাকি জীবন তাড়িয়ে বেড়াবে। আমি আমার সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েছিলাম।’ এই বার্তার মধ্যে দিয়ে একটা বিষয় স্পষ্ট যে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান এখন মানসিক দিক থেকে অনেকটাই ভেঙে পড়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশে এখন ইউনূসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমশ পুঞ্জিভূত হচ্ছে।
ইউনূস জানিয়েছেন, তিনি ভোট করাতে বদ্ধপরিকর। ভোটের কোনও বিকল্প হতে পারে না। ওই সেনাকর্তাকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের জন্য একটা চাপ রয়েছে। আপনারা যেভাবে ভাবছেন, যাকে তাকে বাদ দিয়ে একটা নির্বাচন হবে, সেটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়।’ অন্যদিকে সাংবাদিকদের ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে যাতে কোনওভাবেই ভোট হতে না পারে, তার জন্য কিছু স্বার্থাণ্বেষী গোষ্ঠী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘একটা গোষ্ঠী চায় না নির্বাচন। তারা চাইছে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করতে, যা ভোট প্রক্রিয়াকে বানচাল করে দিতে পারে।’ তাঁর প্রেস সচিব শাফিকুল আলম জানিয়েছেন, ‘ইউনূস সব রাজনৈতিকদলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। জোটবদ্ধ হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। সুষ্ঠু ভোটের পথে যে সব বাধা রয়েছে সেগুলিকে সমবেতভাবে প্রতিহত করার ডাক দিয়েছেন। ’
আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, ইউনূস এখন সেফ প্যাসেজ খুঁজছেন। ইতিমধ্যে বাতাসে ভাসতে শুরু করছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে যাতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে না পারে, তার জন্য বাংলাদেশে একটি স্বার্থাণ্বেষী চক্র কাজ করছে। তারা চাইছে নির্বাচন বানচাল করতে। সেটা অনুমান করে জাতীয় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ভোট ছাড়া বিকল্প কিছু হতে পারে না। ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান রোধ করতে হলে সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে। রাজনৈতিক দল, সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলারক্ষা বাহিনী – সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়ঙ্কর পরিণতি ভোগ করবে।‘
ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা সাত দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রবিবার বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেছে। তবে বৈঠককে ছাপিয়ে গিয়েছে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান এবং সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থকর্তার সঙ্গে তাঁর বৈঠক।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দপ্তর ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করেছে। হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন দেশে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের জন্য সেনেটের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেই তালিকায় নাম ছিল ব্রেন্টের। সেনেট প্রস্তাবে সহমত পোষণ করেছে।
ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে সার্জিও গরকের হাতে। ফ্লোরিডার স্টেফনি হ্যালেটকে বাহরিনে, মিসৌরির উইলিয়াম লংকে আইসল্যান্ড এবং আইওয়ার জেমস হোল্টসনাইডারকে জর্ডানের মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post