অস্থির বাংলাদেশে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রূদত নিয়োগ করল হোয়াইট হাউস। আর তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ঢাকায় যাচ্ছেন ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। ক্রিস্টেনসেন হোয়াইট হাউজে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রিস্টেনসেন মাত্র তিন বছর আগে মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও আর্থিক বিষয়ক কাউন্সিলর ছিলেন। আবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পাকিস্তান ডেস্কে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ক্রিস্টেনসেনকে নিয়োগের পিছনে অনেক অঙ্ক রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিকমহল।
ট্রাম্পের প্রথম দফায় হোয়াইট হাউজ বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করত। ঢাকার ব্যাপারে নীতি নির্ধারণ করত। সেটা নয়াদিল্লিকে অবহিত করত। সেই ধারা বাইডেন জমানাতেও বহাল ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ধারায় ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন। ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশে সমন্বিত বিদেশ নীতি নিচ্ছেন বলে মনে করছে তথ্যভিজ্ঞমহল। দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা, সুরক্ষায় মার্কিন কর্তৃত্ব কায়েম করাই ট্রাম্পের লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন এই ক্রিস্টেনসেন? মার্কিন এই আমলা ২০২২-য়ের অগাস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ইউএস স্ট্র্যাট কম্যান্ড ( ইউনাইটেড স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কম্যান্ড) বিদেশ নীতি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই পদে থাকাকালীন তিনি কম্যান্ডারকে কৌশলতগত প্রতিরোধ মিশনের পররাষ্ট্র নীতিগত প্রভাব সম্পর্কে পরামর্শ দিতেন।
ক্রিস্টেনসেন একজন সিনিয়র ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা হিসেবে এর আগে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সিলর স্টেট ডিপার্টমেন্ট ব্যুরো অফ পলিটিক্যাল –মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের আঞ্চলিক নিরাপত্তা অস্ত্র স্থানান্তর অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন।
একটা বিষয় স্পষ্ট যে ট্রাম্প প্রশাসন ক্রিস্টেনসেনকে বুঝে শুনেই ঢাকায় পাঠিয়েছেন। বর্তমানে ঢাকার ব্যাপারে হোয়াইট হাউসে যে কজন কর্তা রয়েছেন, তার মধ্যে বাংলাদেশকে বোঝার মতো ক্ষমতা ক্রিস্টেনসেনের রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি তাঁর নিরিক্ষে সে দেশে এমন একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষকে দূত হিসেবে পাঠাতে হবে যে সব কিছু বুঝে পদক্ষেপ করবে। পাশাপাশি চিনের সঙ্গে ভারতের নতুন সম্পর্কের বিষয়টিকেও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। রয়েছে দিল্লির সঙ্গে শুল্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের ঠাণ্ডা লড়াই। পরিস্থিতি যে একেবারেই আমেরিকার পক্ষে নয়, সেটা বেশ ভালোই বুঝতে পারছেন।
ঢাকায় সর্বশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন পিটার হাস। তিনি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তদশ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২-য়ের মার্চ থেকে ২০২৪-য়ের এপ্রিল পর্যন্ত হাস ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে ছিলেন। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিস থেকে অবসর নেন পিটার হাস।
ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন দুই দশকের বেশি সময় কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। একসময় তাকে উত্তর কোরিয়ার মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারী এবং যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক উপকমিটির পিয়ারসন ফেলো হিসেবে তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ফ্লোরিডার সার্জিও গরকে ভারতের পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য কয়েকটি দেশেও নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছে হোয়াইট হাউজ। ফ্লোরিডার স্টেফানি হ্যালেটকে বাহরিনে, মিসৌরির উইলিয়াম লংকে আইসল্যান্ডের এবং আইওয়ার জেমস হোল্টসনাইডারকে জর্ডানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সবার নজর এখন ঢাকায় নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর। আগামীদিনে ঢাকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের পরিণতি কী হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করছে নতুন রাষ্ট্রদূতের ওপর।












Discussion about this post