২০২৪ সালের জুলাই-অগস্ট মাসে বাংলাদেশ সরকার বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছিল। অভিযোগ, ওই আন্দোলন দমন করার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সে দেশের পুলিশ হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে গুলি করে মেরেছিল। ওই সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান বা আইজিপি ছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। যাকে গণঅভ্যুত্থআন পরবর্তী সরকার গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার তিনিই পূর্বাতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যে দিলেন। উল্লেথ্য সাবেক এই পুলিশ কর্তা আগেই রাজসাক্ষী হতে চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন আগেই। এবার আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ করলেন। তাঁর দাবি, আমার ৩৬ বছরের কর্মজীবনে কখনও মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠেনি। চাকরি জীবনের শেষ লগ্নে এসে অপরাধে জড়িয়েছি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নির্দেশ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা-সহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুন প্রধান অভিযুক্ত। এরমধ্যে প্রথম দুজন পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। এবং প্রাক্তন পুলিশকর্তা গ্রেফতার হয়েছিলেন। এই মামলার ঢাকার আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে এখনও পর্যন্ত ৩৬ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রতিটি সাক্ষীই তাঁদের জবানবন্দিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল-সহ জুলাই,আগস্টে হত্যাযজ্ঞে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। আরও স্পষ্ট করে বললে, ওই হত্যাযজ্ঞের জন্য তাঁরা কেবলমাত্র শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে দায়ি করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বর্তমান মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশে একটা ভয়ের পরিবেশ রয়েছে। আর সেই ভয়েই সাক্ষীরা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন। এভাবে বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার বহু উদারহণ বিগত এক বছরে দেখা গিয়েছে ইউনূসের বাংলাদেশে। এমনকি মব সৃষ্টি করে আদালতে বিচারপতিদের পর্যন্ত অপসারণের ঘটনাও আছে। অনেকেই দাবি করছেন, সাবেক আইজিপির পরিবারকে ভয় দেখিয়ে তাঁকে রাজসাক্ষী হিসেবে রাজি করানো হয়েছে। আইনজীবী মহলের একাংশের প্রশ্ন, যদি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আকাট্য সাক্ষপ্রমান থাকে, তাহলে রাজসাক্ষীর প্রয়োজন কেন? যিনি রাজসাক্ষী হয়েছেন, জুলাই-আগস্টের গণহ্ত্যায় তিনিই প্রত্যক্ষভাবে দায়ি। অথচ তিনিই মৌখিকভাবে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের নিরেদেশের ধুঁয়ো তুলে নিজের দায় এড়াচ্ছেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী হিসেবে গোপন জবানবন্দি দেন সাবেক আইজিপি মামুন। এরপর তাঁকে আংশিক জেরা করেন শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর এই আইনজীবীর সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বহস্পতিবারও তাঁকে জেরা করার অনুমতি দিয়েছিলেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। জানা যাচ্ছে, জানা যাচ্ছে, জবানবন্দিতে রাজসাক্ষী চৌধুরী মামুন আওয়ামী লীগ শাসনকালে বাংলাদেশ পুলিশে রাজনৈতিক প্রভাব এবং গ্রুপিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার সরকারের নেতা মন্ত্রীরা পুলিশকে ব্যবহার করতেন রাজনৈতিক ফায়দা লুঠতে। জুলাই আন্দোলন ঠেকাতেও পুলিশকে নির্বিচারে নাকি গুলি বা মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বয়ং শেখ হাসিনা। এমনকি জুলাই-আগস্টে গণহত্যা চালানো হয়েছে জানিয়ে নিজের দায় স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছেন সাবেক আইজিপি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামাল এখনও পলাতক এবং ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। তাঁকে অভিযুক্ত করে যে বিচার প্রক্রিয়া চলছে, তাতে লাভ কি হবে? হাসিনাকে কে কি ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব? আসলে পুরোটাই লোক দেখানো এবং দেশের জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।












Discussion about this post