প্রাক্তন মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলেভান, যিনি বাইডেন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীগার ছিলেন। তিনিও এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত বিরোধিতা নিয়ে মুখ খুললেন। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে খোদ মার্কিন মুলুকেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতের প্রতি আরোপ করা এই শুল্কবোমা কি আদৌ ভারত বিরোধিতা নাকি ব্যাক্তিগতভাবে নরেন্দ্র মোদির প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ? এই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এবার জ্যাক সুলিভান হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন। তাঁর দাবি, এক ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দাবি করলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানে তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক চুক্তিগুলিকে সাপোর্ট করার জন্য ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ককে খারাপ করেছেন। যে সম্পর্ক দ্বিদলীয় ভিত্তিতে কয়েক দশক ধরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতের সঙ্গে গড়ে তুলেছে। যা এক লহমায় গুঁড়িয়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যদিও রাশিয়া থেকে ছাড়ে অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়ে ভারতকে বরাবরই একহাত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবং এই ৫০ শতাংশ ট্যারিফের কারণও সেটা বলে দাবি করে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। কূটনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ প্রশ্ন তুলছেন, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের বৃহত্তম আমদানিকারক চিন বা ইউরোপের বিরুদ্ধে কেন উচ্চ শুল্ক আরোপ করছে না ওয়াশিংটন? ঠিক এই কারণেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্রাম্পের যাবতীয় হুঁশিয়ারি কানেই তুলছেন না। তিনিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারত যেখানে সুবিধা পাবে সেখান থেকেই তেল কিনবে। অর্থাৎ, মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে সরাসরি উপেক্ষা করছেন নরেন্দ্র মোদি।
এই আবহে চিনের তিয়ানজিন শহরে বসেছিল এসসিও সম্মেলন। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিন ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিন। কুশলী নরেন্দ্র মোদি সেই সুযোগটাই কাজে লাগালেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা চাপ দিতে। আর তাতেই কার্যত বেসামাল ওয়াশিংটন। একে একে মুখ খুলছেন তাবড় মার্কিন কূটনৈতিক, বিশ্লেষক এবং সমালোচকরা। অপরদিকে নরেন্দ্র মোদি কেন অনড় ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতির সামনে মাথা নত করতে? বলা হচ্ছে, শুধুমাত্র দেশীয় কৃষক, মৎসজীবী ও পশুপালকদের সুরক্ষা দিতে নয়, প্রধানমন্ত্রী মোদির মাথায় ঘুরছে বাংলাদেশে মার্কিন আধিপত্যকে থামানোর মতো ইস্যুও। প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় বসেই প্রথম বৈঠকে ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে পাশে বসিয়েই বলেছিলেন, বাংলাদেশের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব মোদির ওপরেই থাকবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরও দশটা ফাঁকা আওয়াজের মতো একটা। আসলে বাংলাদেশে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ এবং কক্সবাজারে রাখাইন মানবিক করিডোরের নামে মিয়ানমারে নাক গলানোর যে কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। সেটা রুখতেও চিনের এসসিও সম্মেলনকে হাতিয়ার করেন নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যাবতীয় দৌঁড়ঝাঁপ বন্ধ করতে এবার একজোট হচ্ছে ভারত-চিন-রাশিয়া। বাংলাদেশে যদি মার্কিন সামরিক বেস তৈরি হয়, তাহলে সরাসরি বেকায়দায় পড়বে চিন ও ভারত। অন্যদিকে সামান্য হলেও সমস্যায় পড়বে রাশিয়া। সূত্রের খবর, এবারের এসসিও সম্মেলনে তিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান একযোগে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলার পাল্টা কৌশল নিয়েছেন। এই বার্তা ওয়াশিংটনেও পৌঁছে গেছে। আর তাতেই ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান্ জ্যাকবসন তৎপরতা বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানও তৎপরতা বাড়িয়েছেন। তিনিও পর পর বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, প্রধান উপদেষ্টা এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে। একটা মহলের দাবি, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ভারতের গ্রীন সিগন্যাল পেয়েই এবার আসরে নেমেছেন। কারণ, তিনি জানেন বাংলাদেশে মার্কিন প্রভাব এবার ধীরে ধীরে কমবে। এটা এসসিও সম্মেলনে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দুরবস্থা থেকেই দিনের আলোর মতো পরিস্কার। বাংলাদেশে খুব শীঘ্রই নতুন ভোর আসবে। আর তা আনবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।












Discussion about this post