সুকুমার রায় লিখেছিলেন বাতাসের গায়ে কেন টক টক গন্ধ।
বাংলাদেশে চলতে থাকা ঘটনাপ্রবাহের নিরিখে লাইনটি বেশ খাসা শোনাবে। শুধু কি তাই?
‘টক টক থাকে নাকো হলে পরে বৃষ্টি, দেখেছি চেটে একেবারে মিষ্টি।’
ইউনূসের এটা ছিল সে সময়ের অবস্থা। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস দিন-রাত, ২৪ ঘণ্টা স্বপ্ন দেখতেন যে তিনি বাংলাদেশের পরবর্তী ‘সুলতান’ হতে চলেছেন। কারণ, তার পাশে রয়েছে সর্বশক্তিমান সেনা। রয়েছে জিয়ার দল, লোক লস্কর। এখন তার ঘোর কেটেছে। ইউনূস আগে আয়নায় চোখ রাখলে দেখতে পেতেন বাংলার মুখ। এখন আয়নায় মুখ দেখতে ভয় পাচ্ছেন। দেখতে গেলে কী না কী দেখে ফেলবেন। তাই আয়না কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। ইউনূস এখন খুঁতধরা বুড়ো। সবেতেই খুঁত আর ভূত দেখছেন। অনেকটাই এইরকম – তাই দেখে খুঁতধরা বুড়ো কয় চটে, দেখছ কি এই রং মোটে নয় পাকা।
আসলে রামধনুর সেই সাত রং আর নেই। এখন ‘নিম গাছেতে হচ্ছে সিম,হাতির মাথায় ব্যাঙের ছাতা, কাগের বাসায় বগের ডিম।’ আসলে বাংলাদেশের আকাশে যে টক টক গন্ধে মঁ মঁ করছে সেটা আসলে বারুদের গন্ধ। বাতাস যে রীতিমতো তপ্ত, বঙ্গোপসাগরে যে নিম্মচাপ ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে, সেটা বুঝতে পারছেন মহম্মদ ইউনূস।
একসময় যারা বিএনপির দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, বিএনপি এখন তাদের কথা আর মনে রাখতে চাইছে না। এটা হওয়ার ছিল। ইউনূসের কথার তাল পাওয়া যাচ্ছে না। তার কর্মকাণ্ডের কোনও ধারাবাহিকতা নেই। তাঁর সঙ্গে একসময় যাদের নিবির ঘনিষ্ঠতা ছিল, মানে হরিহর আত্মা, এখন তাদের সঙ্গে ইউনূসের একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সময় যত গড়াচ্ছে, সেই দূরত্ব আরও বাড়ছে। ফলে ইউনুস এখন কার্যত একাচারী। এমনকী যে দলকে তিনি বন্ধুর মতো মনে করেছিলেন, বিশ্বাস করেছিলেন, সেই বিএনপির সঙ্গে এখন তার আর তেমন মাখো মাখো সম্পর্ক নেই। বিএনপি এখন তাকে আর তেমন বিশ্বাস করতে পারছে না। বলা ভালো, তারা এখন ইউনূস নির্ভরতা কমাতে চাইছে। উলটো দিক থেকে ইউনূসও কিন্তু বিএনপির কাঁধে হাত রাখতে তেমন আর ভরসা করতে পারছেন না। ফলে, ইউনূস এখন সব কূল হারিয়েছেন।
আওয়ামী লিগ ঘন ঘন মিছিল করছেন। খুব ছোট ছোট মিছিল। তাদের এই মিছিলে প্রতিপক্ষ রীতিমতো আতঙ্কিত। শেখ হাসিনাও খুব ডিপ্লোমেটিক ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন। তিনি ফিরে আসার আশ্বাস দিয়েছেন। হাসিনা যখন শান্তভাবে কোনও কথা বলবেন বা কোনও আশ্বাস দেবেন, তখন ধরে নিতে হবে, তাকে কেউ এভাবে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী হাসিনা তার ব্যবহার, তার ভাষার ওপর বিশেষ নজর দিয়েছেন।
অন্যদিকে, পুলিশ ও প্রশাসন ঘন ঘন বৈঠক করছে। তারা কী নিয়ে বৈঠক করছে, সে ব্যাপারে কাক, চিল, শকুন – কেউ কিচ্ছু জানে না। বলছে, তারা সতর্ক রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে তারা সতর্ক রয়েছে কোন দিক থেকে – দেশবাসীকে রক্ষা করার জন্য, নাকি জান-মাল রক্ষা করার জন্য? নাকি আওয়ামী লিগের মোকাবিলার জন্য? তারা কী মনে করছে, যে কোনও সময় ধুমকেতুর মতো উত্থান ঘটবে আওয়ামী লিগের? নাকি ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে সংঘর্ষ ঘটছে, তার মোকাবিলার জন্য? সেনাকর্তার মেয়াদ শেষ এই বছরেই। তাহলে কী তার আগে কিছু একটা ঘটবে বাংলাদেশে?












Discussion about this post