জ্বলছে নেপাল। সোশ্যাল মিডিয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারির বিরুদ্ধে সোমবার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় নেপাল। ইতিমধ্যে এক সাংবাদিক সহ ১৬জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত শতাধিক। কাঠমান্ডুতে কার্ফু জারি করেছে সরকার। ইতিমধ্যে জরুরীকালীন বৈঠক শুরু করেছে নেপাল সরকার।
বিক্ষোভের মূল কারণ সামাজিক মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা। ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম সহ সব সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে শুরু হয়ে গিয়েছে জেন জেড বিপ্লব। শুধুমাত্র যে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নিষেধ জারি করায় তরুণ প্রজন্ম সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে এমনটা নয়। আসলে সরকারের বিরুদ্ধে অনেক দিন ধরেই তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ জমছিল। সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় সেই জমে থাকা ক্ষোভের উদগিরণ ঘটল। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যে ক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল, দ্রুত তা দুর্নীতি কর্তৃত্ববাদ নেতৃত্বের জবাবদিহিতার অভাবের বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
সংবাদসংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুজান রাজভান্ডারী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে আমরা আন্দোলনে নেমেছি ঠিকই। কিন্তু এটাই আমাদের জড়ো হওয়ার একমাত্র কারণ নয়। আমরা নেপালে যে প্রাতিষ্ঠানিক দূর্নীতি চলছে, তার প্রতিবাদে আমাদের এই আন্দোলন। যুজান বা ইখমার মতো হাজার হাজার তরুণের কাছে এই বিক্ষোভ আসলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব সহ ২৬টি সামাজিক মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নেপাল সরকার। সরকার বলছে, এই সব সামাজিক মাধ্যমকে নেপালে চলতে হবে সে দেশের নিয়ম মানতে হবে। এর জন্য তাদের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সব সামাজিক মাধ্যম নেপাল সরকারের শর্ত বা নির্দেশ মানতে অস্বীকার করায় সরকারকে বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্তন নিতে হয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, নেপালকে অশান্ত করার পিছনে কী ভারতের হাত রয়েছে?
যদিও রাজনৈতিকমহল বলছে, এর সঙ্গে ভারতের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। নেপালকে অশান্ত করে ভারতের লাভের লাভ কিছুই হবে না। তাছাড়া, ভারত এখন দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করায় দিল্লি আমেরিকার সঙ্গে তাদের সম্পর্কের সমীকরণ বদলে ফেলেছে। তাই, নেপালের বিষয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হওয়ার সুবাদে সে দেশের দিকে নজর রেখেছে ভারত। এই খবর লেখা পর্যন্ত নেপালের অস্থির অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
তবে নেপাল সরকারের একটি সূত্র উদ্ধৃত করে একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে পারে। না হলে প্রধামন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি তাঁর গদি হারাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে চিন খুব সুবিধেজনক জায়গায় পৌঁছে যাবে। কাঠমাণ্ডু ভুলেও সে পথে হাঁটবে না।
গত মার্চে নেপালে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরিস্থিতি সামলাতে নামাতে হয় সেনা। সেই বিক্ষোভের ছ মাস কাটতে না কাটতে ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে নেপাল। গত ১৭ বছরে গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ নেপালে ১৩ বার সরকার বদল হয়েছে। তারপরেও ভারতের এই পড়শি দেশে শান্তি ও সুস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এখন ক্ষমতায় থাকা ওলি চিনপন্থী। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী চিন যেভাবে বাক স্বাধীনতার ওপর কর্তৃত্ব কায়েম করেছে, নেপাল সরকারও সেভাবে কর্তৃত্ব কায়েম করতে চায়।












Discussion about this post