বছর ঘুরলে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। তার আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হল ছাত্র নির্বাচন। এই ভোট এখন বাংলাদেশে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই ভোটের ফলাফলের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়তে বাধ্য বলে মনে করছে ঢাকার রাজনৈতিকমহল। বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী মঙ্গলবার বলেন, ডাকসুর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ইলেকশনের ট্রেনে উঠে গেল বাংলাদেশ। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময়) শেষ হয় বিকেল চারটে।
এই নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছিল। তবে সংশয় কেটেছে। দীর্ঘ ছয় বছর বাদে মঙ্গলবার আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। গণ অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম দেশে কোনও ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ডাকসু নির্বাচন সহ অন্যান্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন আগামী জাতীয় নির্বাচনের মডেল হবে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, অনেক বছর বাদে একটা নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে এখনও কোনও অভিযোগ আসেনি। নির্বাচন ভালোই হচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে ডাকসু নির্বাচন পুরোপুরি মিলবে না জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন আগামী জাতীয় নির্বাচনের একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।
প্রার্থীরা গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার প্রচার চালিয়ে গিয়েছে। প্রচারে দিয়েছে নানা প্রতিশ্রুতি। ভোটারদের কথায়, সব প্রতিশ্রুতি হয়তো পূরণ করতে পারবে না। কিন্তু প্রতিবছর ডাকসু নির্বাচন হলে ধীরে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে। শিক্ষার্থীরা এমন প্রার্থী চাইছেন যারা রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সৎ, সাহসী এবং শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করতে সক্ষম হবেন।
ছাত্র শিবির গত অগাস্ট থেকে চাইছিল, দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন। দেশের সব ছাত্রসংগঠনগুলি এই বিষয়ে ছিল একমত। ব্যতিক্রম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তাদের যুক্তি, গত ১৭ বছর ধরে তারা ক্যাম্পাস রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেনি। তাই, তাদের আরও সময় দেওয়া প্রয়োজন। তারা এও বলছিল, হলে ফিরে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে তাদের সংযোগ স্থাপনের প্রয়োজন।
ডাকসু, জাকসু নির্বাচন ছাত্র শিবিরের জন্য একটা দারুণ সুযোগ। বাংলাদেশের হলগুলিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ ভোট দেওয়ার জোরাল দাবি ওঠে। গত অগাস্ট থেকে এই দাবি উঠতে শুরু করে। তবে বিরোধিতা করে এসেছিল ছাত্রদল। তারা বাংলাদেশের পাবলিক হলে প্রবেশ করতে পারেনি। হলে না ফিরতে পারলে পডুয়াদের সঙ্গে কোনও রকম সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে না। ছাত্র লীগের বিরুদ্ধে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। হামলা করছে। তাই, ছাত্র লীগকে প্রতিহত করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়ে।
হাসিনা সরকারের পতনের পর ছাত্র লীগ দেখল ছাত্রী লীগের আত্মপ্রকাশ। ছাত্র লীগের মেঘ মল্লার বসুরা বুঝতে পারেনি, ৭১য়ের পক্ষে বিপক্ষে এই দিয়ে ছাত্র রাজনীতি আর চলবে না। নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। নাহিদ ইসলাম সে কথাই বলছেন। বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির সুর বদলে গিয়েছে। এটা এখন একটা সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ছাত্র রাজনীতি পৌঁছে গিয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post