গ্রেফতার প্রাক্তন সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন আদালত আবু আলমকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। গত ২৮ অগাস্ট রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মিলনায়তনে মঞ্চ ৭১ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে হামলা চলে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক মঞ্জুর আলম সহ ১৬জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের যড়যন্ত্রের অভিযোগে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রুজু হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই ঘটনায় পূর্বতন সরকারের প্রাক্তন সচিব আবু আলমকে পুলিশ এবার গ্রেফতার করল। তাঁকে রবিবার তাঁর বাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
আবু আলমকে যে মামলায় গ্রেফতার করেছে, সেই মামলায় বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র, মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ অগাস্ট মঞ্চ ৭১ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। আদালতে পেশ করা আবদনে পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযু্দ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধে গত ৫ অগাস্ট মঞ্চ ৭১ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ওই সংগঠন গত ২৮ অগাস্ট সকাল ১০টায় একটি বৈঠকের আয়োজন করে। সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা ১১টায়। এর মধ্যে একদল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভায় ঢুকে পড়ে।’
আবদনে এও বলা হয়েছে, ‘হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনায় ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। আলোচনায় যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাদের ঘেরাও করে রাখে। এক পর্যায়ে অতিথিদের অনেককে বের করে দেওয়া হলেও আবদুল লতি সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে দীর্ঘক্ষণ আটক করে রাখা হয়। পরে পুলিশ সেখানে পৌঁছে ১৬জনকে গ্রেফতার করে। ২৯ অগাস্ট শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস-বিরোধী আইনে এদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।’
এদেরকে গ্রেফতার করার আসল কারণ কিন্তু অন্য। এরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। মুক্তিযু্দ্ধের ইতিহাসের পক্ষে। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের কথা এরা জোর গলায় বলতে চায়। আর ভোটের মুখে এদের কণ্ঠ রোধ করতে না পারলে অন্তর্বর্তী সরকারের যে বিপদ আরও ঘনীভূত হবে, সেটা ইউনূস বেশ ভালোই বুঝতে পেরেছেন। তাই, তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনও আইনে মামলা রুজু করার পরিবর্তে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রজু করছে পুলিশ।
মঞ্চ ৭১ আসলে একটা ফাঁদ। আসলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যারা রয়েছে, যারা বাংলাদেশে মুক্তি সংগ্রামের পক্ষে সওয়াল করছে, তাদের একজায়গায় কীভাবে জড়ো করা যায়, তার একটা রাস্তা খুঁজছিল সরকার। ৭১ মঞ্চ সেই রাস্তা তৈরি করে দেয়। আর আবু আলম আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও কিন্তু অতীতে তাঁকে দেখা গিয়েছে আওয়ামী সরকারের সমালোচনা করতে। অথচ তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে। তাই, মুক্তিযোদ্ধারা আক্রান্ত হলে দেখা গিয়েছে তাঁকে মুখ খুলতে। অন্তর্বর্তী সরকার চায় না, আবু আলমের মতো এমন শক্তপোক্ত লোক প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে। বাংলাদেশে মুক্তি সংগ্রামের পক্ষে সওয়াল করবে। তাই, যত দ্রুত এদের কণ্ঠ রোধ করা যায়, ততই সরকারের পক্ষে মঙ্গল। মঞ্চ ৭১ ছিল একটা জাল। সেই জালে ভুল করে পা দিয়ে ফেলেছেন আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post