দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। দেশে ফিরতে চলেছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। খবর তেমনই। সূত্রের খবর, কয়েকদিনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা ভিডিও বার্তার মধ্য দিয়ে দেশবাসীকে তাঁর পদ্মাপারে ফেরার খবর দিতে পারেন। সেটা কবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে তিনি দেশে ফিরতে উদগ্রীব। সেটা তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েও দিয়েছেন। বিশেষ করে গোপালগঞ্জের ঘটনার পর হাসিনা আর স্থির থাকতে পারেননি। কিন্তু ভারতীয় এজেন্সি থেকে তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়, এখনই বাংলাদেশে না যাওয়া তাঁর পক্ষে মঙ্গল। হাসিনাকে একই পরামর্শ দিয়েছেন তাঁর আত্মীয় পরিজনেরা। এখন দেশে ফিরলে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে, আরও কয়েকদিন ভারতে থেকে গেলে ভালো হয়।
মাত্র কয়েকদিন আগে চিনে প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক হয় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের। এই বৈঠকের পরেই হাসিনা বুঝতে পারেন, তাঁর পাশে ভারত ছাড়াও রয়েছে আরও দুই রাষ্ট্র চিন এবং রাশিয়া। তিন দেশের থেকে সব ধরনের সাহায্য তিনি পাবেন। সেটা দেশ গঠনই হোক বা তাঁর রাজনৈতিক ব্যবস্থা। সব তারা সামলে নেবে। সূত্রের খবর, ভারত ছাড়া চিন ও রাশিয়া এই দুই দেশের দুই রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। হাসিনা মানসিকভাবে দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তাঁর আগে তিনি একটা ভিডিও বার্তা দেবেন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল গত ৩ জানুয়ারি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘বাংলাদেশের তরফে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে সবিস্তারে বলার মতো সময় হয়নি।’ ঠিক পরে দিন সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি। তিনি বলেন, ‘তাইল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস বৈঠক করেন। বৈঠকে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি উঠে আসে। বাংলাদেশের তরফে হাসিনাকে সে দেশের ফেরত পাঠানোর অনুরোধ এসেছে।’
ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে অন্যান্য প্রসঙ্গ উঠে আসে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন। সে দেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে একটি সূত্র বলছে, চিন্ময়ানন্দের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারের দেখার জন্য ইউনূসের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন। যদিও তাঁর জামিন আদালত খারিজ করে দিয়েছে।
বাংলাদেশে যে একটা অবৈধ সরকারের রাজত্ব চলছে, তা গোটা বিশ্ব জেনে গিয়েছে। সরকার বিরোধী কেউ কোনও কথা বললে তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বুদ্ধিজীবীদের হেনস্থা বরদাস্ত করতে পারছেন না শেখ হাসিনা। দেশে ফিরলে এদের বিরুদ্ধে যত মামলা দায়ের করা হয়েছে সব মামলা খারিজ করে দেবেন। অন্যদিকে, হাসিনা চাইছেন জনতার রায়ে ফের ক্ষমতায় ফিরতে। তাঁর ইচ্ছা বা অনিচ্ছার পর ভারত কোনও জোর জবরদস্তি করতে নারাজ। তবে বঙ্গবন্ধু কন্যা স্বীকার করে নিয়েছে, তাঁর দীর্ঘ শাসনামলে অনেক কুকীর্তি হয়েছে। সেটা না হলেই ভালো হত। তবে এই সব কুকীর্তির বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। সব হয়েছে তাঁকে অন্ধকারে রেখে। তবে যারা এই কুকীর্তির সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের আর কোনওদিন ক্ষমতায় দেখা যাবে না। তাদের ক্ষমতা ইতিমধ্যে ছাঁটাই করা হয়েছে। হাসিনা দেশে ফিরলে তাদের হয়তো দল থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেবেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post