বাংলাদেশের জন্য নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে রাষ্ট্রদূতের জায়গায় দায়িত্ব পালন করছেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, বাইডেন প্রশাসন ঢাকার বিষয়ে যে অবস্থান নিয়েছিলেন, ট্রাম্প সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছেন। একই সঙ্গে এটাও বলা প্রয়োজন, বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন চিন্তাভাবনা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সার্বিকভাবে এশিয়া নিয়ে তাঁর খুব একটা মাথা ব্যথা নেই বললেই চলে। তবে দুটি গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়ে তিনি চিন্তাভাবনা করছেন। প্রথমটি বার্মা অ্যাক্ট। মায়ানমারে মার্কিন আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা তারা করে যাচ্ছে। শুরু হয়েছিল জো বাইডেনেরআমলে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রী চাইছেন ট্রাম্প। বার্মা অ্যাক্টের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে কতটা প্রভাব পড়বে, তা ভিন্ন বিষয়।
ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর রোহিঙ্গাদের নিয়ে তার ব্যস্ততা লক্ষ্য করার মতো। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে যে লুকোচুরি খেলা চলছে, সেটাও সকলের নজরে পড়েছে। অপরদিকে আরাকান সেনাকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা করা হয়েছে সুকৌশলে যাতে বাংলাদেশ আমেরিকার শরণাপন্ন হয়। এটা বাংলাদেশের কাছে শাখের করাত। চিনের কাছে গেলেও বিপদ, ভারতের কাছে গেলে তো আরও বিপদ। পশ্চিমের রাজনীতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে তোলপাড় করে তুলতে চাইছে। একসময় যে পাকিস্তান আমেরিকার মিত্র ছিল, সেই পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের আর তেমন সখ্য নেই বললেই চলেছে। বালুচিস্তানকে স্বাধীন করতে সচেষ্ট হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারতকে খণ্ড বিখণ্ড করার একটা চেষ্টা চলছে বলে খবর। আমেরিকার এই গোপন অভিসন্ধিতে দিল্লি রীতিমতো শঙ্কিত। এই অবস্থায় বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রদূত পাঠিয়েছেন ডোনাল্ড।
ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ যে কোনও মূল্যে বন্ধ করতে। কিন্তু তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ তো হয়নি। এমনকী যুদ্ধ কবে থামবে সে বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না। ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে একটি বাফার জোন তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে থাকবে আমেরিকার সৈন্য, ন্যাটোর সৈন্য বাংলাদেশের সৈন্য সেখানে শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসেবে থাকবে। মজার বিষয় হল, যে সেনাবাহিনী নিজের দেশে শান্তি রক্ষা, সীমান্ত রক্ষা করতে পারছে না, সেই দেশের সেনাবাহিনী আমেরিকার হাতিয়ার হয়ে উঠতে চলেছে। কিন্তু রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক। বাংলাদেশ কী সেই ক্ষয়ক্ষতি বহন করতে পারবে? তাদের সেই ক্ষমতা রয়েছে?
উত্তর কোরিয়াতে রীতিমতো কান্নার রোল পড়ে গিয়েছে। রাশিয়ার প্রয়োজনে উত্তর কোরিয়া সেনা দিয়ে সাহায্য করবে, উত্তর কোরিয়ার প্রয়োজনে রাশিয়া সেনাবাহিনী দিয়ে সাহায্য করবে – এই রকম একটা বোঝাপড়া দুই দেশের মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ রাশিয়া বনাম ইউক্রেনের হলেও এই যুদ্ধ কিন্তু রুশ-মার্কিন ছায়াযুদ্ধ হিসেবেই দেখা উচিত। সেই যুদ্ধের মধ্যে বাংলাদেশকে টেনে নেওয়ার জন্য আমেরিকা একটি ফাঁদ তৈরি করেছে।
এখন বাংলাদেশে আলোচনার বিষয় রুশ-ইউক্রেন যু্দ্ধ না কি হাসিনার প্রত্যাবর্তন? ভোট ফেব্রুয়ারিতে। তদারকি সরকার সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। আবার ভোট বানচাল করতে একটি গোষ্ঠী বেশ সক্রিয়। তারা চাইছে যে কোনও উপায়ে বাংলাদেশের ভোট ভেস্তে দিতে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, সেটা বলবে ফেব্রুয়ারির ভোটের ফলাফল। এই অবস্থায় বাংলাদেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ একজনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করলেন। পদ্মার জল কী আরও ঘোলা হবে? আর সেই ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়বেন তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post