বাংলাদেশে একটা চক্রান্ত চলছে। আওয়ামী লীগ খারাপ, আওয়ামী লীগকে ধর মারো। দিনের পর দিন আইন শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। নতুন উৎপাত মবের জুলুমবাজি। একটা ভয়ভীতির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র এক কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে যারা একসময় উল্লাসে ফেটে পড়েছিলেন, তাদের মধ্যে একটা হতাশা তৈরি হয়েছে। ৫ অগাস্ট সেনাবাহিনী চাইলে ক্ষমতা নিতে পারত। কিন্তু তারা সেই রাস্তা যায়নি। এই নির্বাচনে এক পক্ষ পিআর পদ্ধতির দাবি তুলেছে। আবার তারা এও বলছে, জনতার দাবিকে তারা প্রাধান্য দেবে। জনতা যদি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়, তাহলে তারা কমিশনের কাছে এই দাবি পেশ করবে। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায়, ফেব্রুয়ারিতে ভোট হচ্ছে, তাহলে তদারকি সরকারের হাতে রয়েছে আর মাত্র চার মাস। অনেকে আবার বলছে, ফেব্রুয়ারি নয়, এই বছরের মধ্যেই নির্বাচন করাতে মরীয়া চেষ্টা চালাবে তদারকি সরকার। আবার এই তপ্ত হাওয়ার মধ্যে নির্বাচনী সংস্কারের দাবি উঠেছে। সব মিলিয়ে একটা জগাখিচুড়ি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলেছে বাংলাদেশ।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, এই জগাখিচুড়ি পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি। বিএনপি এবং জামাতও চেষ্টা চালাবে এই পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার। শয়ে শয়ে অস্ত্র এখনও উদ্ধার করতে পারেনি তদারকি সরকারের পুলিশ। এই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলি তা কাজে লাগাবে। মাঠে নামতে পারে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এই অবস্থায় সেনাবাহিনী যে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য।
সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান কিন্তু তার একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াকার বলেন, ‘আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছে। পরে বলবেন না যে আমি আপনাদের সতর্ক করেনি। ’ ফলে, সেনাশাসনের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপপুকে দেখে মনে হবে, তিনি চুপচাপ বসে রয়েছেন। ব্যাপরাটা কিন্তু আদৌ তেমন নয়। তার হাতে যথেষ্ঠ ক্ষমতা রয়েছে। একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না তিনি কিন্তু আওয়ামী লীগের লোক। কিস্তি মাতের রাজনীতির সুবিধে তিনিও নিতে পারেন। বলতে পারেন, নাও রাজা সামাল দাও। সেনাবাহিনীতেও অনেক আওয়ামী লীগের লোকজন রয়েছে। ফলে, বাহিনী যে একটা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যদিও সেনাশাসন বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে খুব অজনপ্রিয়। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, পরিস্থিতি যেভাবে দিনের পর দিন ঘোলাটে হচ্ছে, তাতে সেনাবাহিনী বাংলাদেশ শাসনের ভার হাতে তুলে নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ক্ষমতায় আসীন হতে কে না চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর সেনাবাহিনী যদিও দেশ শাসনের দায়িত্ব তুলে নেয়, তাহলে তার জন্য দায়ী থাকবে সেই রাজনৈতিক দলগুলি যারা বাংলাদেশকে নানাভাবে অস্থির করে রাখার লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারাই এই পরিস্থিতি তৈরি করছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে কিন্তু মহম্মদ ইউনূসের একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা ক্রমেই শুভ ইঙ্গিত নয়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সেনা শাসন কাম্য নয়। আশা করা যায়, রাজনৈতিক দলগুলির শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত জনতার রায় নিয়ে দেশ শাসনের দায়িত্ব তুলে নেওয়া। না হলে বাংলাদেশ আগামীদিনে আরও অন্ধকারে ডুবে যাবে। তাই, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক একটি সরকারের আসীন হওয়ার সময় হয়েছে ।












Discussion about this post