গভীর ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য ভারত। তবে সরাসরি নয়, ঘুরিয়ে। ষড়যন্ত্রের মাথা সিআইয়ের দুঁদে কর্তারা। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা বুঝে গিয়েছে, ভারত এবং চিনের শাসন ক্ষমতায় পালাবদল কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তাই, এমন একটা ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভারতের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব না পড়লেও পরোক্ষপ্রভাব পড়বে। তাই, প্রথমে নিশানা করা হয়েছিল বাংলাদেশকে, এবার নেপালকে। বাংলাদেশ নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে বহু চর্চা হয়েছে। হাসিনাকে সে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সুতরাং, ধরে নেওয়া যেতে পারে, আগামীদিনে ঢাকার পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে। তাই, বাংলাদেশকে ছেড়ে এবার নেপালকে নিশানা করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা।
নেপালে বিনিয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠই ভারতীয়। কাঠমাণ্ডু অশান্ত হওয়ায় ভারতীয় কোম্পানিগুলির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য অনেকেই আর নেপালে বিনিয়োগের ব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা করছে না। এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতে। ভারতের অর্থনীতি যে অনেকটাই মজবুত, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। সেই উন্নতি আমেরিকা এবং তাঁদের গুপ্তচর সংস্থার সহ্য হচ্ছে না। শুধু কি আমেরিকা? ভারতের উন্নতি অনেকের সহ্য হচ্ছে না। তাই, দেশটাকে পরোক্ষভাবে একটু অস্থির রাখার একটা প্রয়াস তলে তলে শুরু করেছে আমেরিকা। বাংলাদেশ অশান্ত থাকলে ভারত যে স্বস্তিতে থাকবে না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত যেমন আন্তর্জাতিকমহল, নিশ্চিত আমেরিকা। তাই, বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভূটান, নেপাল, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়ায় কোনওভাবে অস্থিরতা তৈরি করতে পারলেই কেল্লাফতে। হয়েছেও তাই।
নেপাল কিন্তু শান্ত একটা দেশ। আর কেপি শর্মা ওলি ভারত বিদ্বেষী, চিনপন্থী। আমেরিকা এবং তাদের গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ এটাকেই মূলধন করেছে। ওলি কার্যত চিনের কোলে বসে পড়েছিলেন। আর বেজিং তাঁকে দিয়ে তাদের ইচ্ছামতো কাজ করিয়ে নিয়েছে। সেটা আমেরিকা সহ্য করতে পারছে না। নেপালের ওপর চিনের আধিপত্য আমেরিকার না পসন্দ। তাই, আমেরিকা টার্গেট করেছিল যেভাবেই হোক নেপালে একটা অস্থিরতা তৈরি করতেই হবে। তাহলে ভারতও অস্থির হয়ে পড়বে। বাংলাদেশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে ভারতকে ভাবতে হবে। সে নিজের ঘর সামাল দেবে, না পরের ঘরের অশান্তি মেটাবে।
আমেরিকা বুঝতে পেরেছে, ভারতের যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করা মুশকিল। তাই, বাংলাদেশ বা নেপালের সঙ্গে কোনওভাবেই তুলনা করা যাবে না। তবু, চেষ্টা যে করেনি, তা নয়। সে কারণে সব কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সজাগ থাকতে হবে। দেশের ভিতরে একটা অশান্তির বাতাবরণ তৈরি চলছে। ট্রাম্পের এখন লক্ষ্য সেটাই। সময় বলছে, ভারতের একটা নিরাপত্তাবলয় তৈরি করতে হবে। ভারতবাসী কিন্তু আমেরিকার চালে পা দিতে নারাজ। ভারতের নেতাদের টাকাপয়সা দিয়ে পকেটস্থ করা যাবে না, সেটা বুঝতে বিন্দুমাত্র অসুবিধে হয়নি আমেরিকার। কিছু নেতা নেই তা পুরোপুরি বলা যাবে না। তার প্রমাণ মিলেছে সদ্য শেষ হওয়া উপারাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ভারত-নেপাল সীমান্ত হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। বুধবার সীমান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্সের এডিজি অজয় নন্দ, সীমান্ত সুরক্ষা বলের ডিআইজি মঞ্জিত সিং, দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপার প্রবীণ প্রকাশ। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশ কুমার যাদব। এদিকে, নেপালের জেন জি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হাইজ্যাক করা হয়েছে। হাইজ্যাক করেছে বহিরাগতরা। বাইরে থেকে ঢুকে পড়া বহিরাগতরা জেন জি-র মুখে কাদা মাখাতে সচেষ্ট।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post