ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বহু আলোচনা চলছে। কারণ ছাত্রশিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্য লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২৮ টি পদের মধ্যে ২৩ টি পদে জিতে গিয়েছে তারা। ভিপি, জিএস, এজিএস পদে। এরকম পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের বিপর্যয়, এই বিপর্যয়টি কেউই স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ছিল না। কিন্তু সেই জমানা যেন ফিরে ফিরে এসেছে। কেন শেখ হাসিনা, বা ছাত্রলীগকে এত বেশি স্বরণ করছে মানুষ? কেন তারা আলোচনায় থাকছেন? তবে কি ইউনূস চক্রান্তের পরাজয়? কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা? চলুন আলোচনা করা যাক।
বাংলাদেশে ডাকসু নির্বাচন হল। কিন্তু সেখানে আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ, শেখ হাসিনার উপস্থিতি কেউ স্বীকার করেনি। এমনকি তারা প্রাসঙ্গিকও ছিলেন না। কিন্তু তারা বারবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন সময়। জানা যাচ্ছে, ডাকসুতে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪। ৫ ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯, আর ১৩ ছাত্র হলে এ সংখ্যা ২০ হাজার ৯১৫। ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে বিভিন্ন পদে ৬২ জন ছাত্রী রয়েছেন। আর প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট পদের সংখ্যা ২৩৪। এসব পদে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন ১ হাজার ৩৫ জন।
শেষমেশ জয়ী হয় জামায়েতি ইসলামি সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি, জিএস এবং এজিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীজোটের প্রার্থী সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদ এবং মৈনুদ্দিন খান। অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বয়কট করে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা এবং ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবদুল ইসলাম খান। এস এম ফরাদের অভিযোগ, ইউল্যাব স্কুল কেন্দ্রে সকাল ৯টা পর্যন্ত কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ইসলামি ছাত্র প্যানেলের একজনকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অমর ২১ হলে আগে থেকেই ছাত্রদের সিল মারা ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছে। আর এই কারচুপির অভিযোগ থেকে নব নির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম, যিনি তখনও ভিপি হননি, তিনি মন্তব্য করেছেন, ক্যাম্পাস অস্থিতিশীলের চেষ্টা হলে তাদের পরিণতি শেখ হাসিনার থেকেও খারাপ হবে। অর্থাৎ তার আলোচনায় বা বক্তব্যে শেখ হাসিনা রয়ে গেলেন। এবং জিএস প্রার্থী যিনি জিএস নির্বাচিত হয়েছেন, ফরহাদ তিনি ছাত্রদলের উদ্দেশ্যে বলছেন, প্লীজ ছাত্রলীগ হন না। ছাত্রদলকে বলেন তিনি। অর্থাৎ সেখানেই ছাত্রলীগকে আলোচনায় নিয়ে আসা হয়েছে। এদিকে আবিদুল ইসলাম খান যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা নির্বাচনের কারচুপির অভিযোগ তুলে বলেন, এই নির্বাচন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট নির্বাচনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ ঘরেফিরে এসেছে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ। কেউ কেউ বলছেন, ছাত্ররা আন্দোলন করে শেখ হাসিনার জমানা শেষ করলেও এখনও মন থেকে দূরে ঠেলতে পারেনি। কেউ কেউ আবার বলছেন, হাসিনার ভয়ে জুজু হয়ে রয়েছে ছাত্ররা। তাই তাদের প্রতিটি বক্তব্যে ফিরে ফিরে এসেছে বঙ্গবন্ধুর কন্যার নাম। যে নাম অনেক চেষ্টা করে হলেও, বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।












Discussion about this post