মুহম্মদ ইউনূসের আমলে প্রথম ভোট। কেমন হবে নির্বাচন সেটা ঘিরে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশেই বহু মানুষ। যদিও শেষমেষ দেখা গেল, মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন উৎসবমুখর হলেও গোল বাধে গণনা শুরু হতেই। এমনকি ভয়ঙ্করভাবে কারচুপির অভিযোগ ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু এবং হল সংসদের নির্বাচনে একে অপরের প্রতি দুর্নীতির অভিযোগ তুলল বিএনপির ছাত্র শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং জামায়াতি ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাএশিবির। তবে কি সমস্ত তথ্য ফাঁস হয়ে গেল?
সংঘর্ষ তৈরি হয় দু পক্ষের নেতাদের মধ্যে। জানা গিয়েছে, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রের সামনে দু পক্ষের সংঘর্ষ তৈরী হয়। এমনকি দু পক্ষের নেতা কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতিও দেখা যায়। চলে স্লোগান পাল্টা স্লোগান। এদিকে গভীর রাতে চলে গণনা। তবে সবশেষে দেখা যায় জয়ী হয় মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কট্টরপন্থী ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠন জামায়েতি ইসলামী সমর্থিত ইসলামী ছাত্রশিবির।
জানা যায়, ভোট শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে চলে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। প্রথম তিন ঘণ্টায় ভোট পড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ। এরপরেই ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলতে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিকদলগুলি। তাদের অভিযোগ, আগে থেকেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ডাকসুতে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪। ৫ ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯, আর ১৩ ছাত্র হলে এ সংখ্যা ২০ হাজার ৯১৫। ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে বিভিন্ন পদে ৬২ জন ছাত্রী রয়েছেন। আর প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট পদের সংখ্যা ২৩৪। এসব পদে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন ১ হাজার ৩৫ জন।
শেষমেশ জয়ী হয় জামায়েতি ইসলামি সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি, জিএস এবং এজিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীজোটের প্রার্থী সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদ এবং মৈনুদ্দিন খান। অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বয়কট করে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা এবং ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবদুল ইসলাম খান। এস এম ফরাদের অভিযোগ, ইউল্যাব স্কুল কেন্দ্রে সকাল ৯টা পর্যন্ত কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ইসলামি ছাত্র প্যানেলের একজনকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অমর ২১ হলে আগে থেকেই ছাত্রদের সিল মারা ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এবং হল সংসদের মোট ৪১টি আসনের নির্বাচনে মূল লড়াই ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের মধ্যে। এইবার ভোট হয়েছে ওএমআর শিটে। এদিকে আবিদুল ইসলাম খান যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা নির্বাচনের কারচুপির অভিযোগ তুলে বলেন, এই নির্বাচন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট নির্বাচনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ মুহম্মদ ইুনূসের আমলে প্রথম নির্বাচনে অভিযোগের পাহাড় জমা হয়েছে। যদিও এইসবের মধ্যে জামায়েতি ইসলামির ছাত্র সংগঠনের জয়ে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। আসলে কোন দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, প্রশ্ন তুলছেন বাংলাদেশেরই বহু মানুষ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post