ড. ইউনূসকে সর্বপ্রথম সরকার প্রধান হওয়ার আমন্ত্রণ জানান সাদিক কায়েম। বাংলাদেশের প্রায় সব সংবাদপত্রের নজরে এই সাদিক কায়েম। সম্প্রতি আল জাজিরার বিশিষ্ট সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি প্রতিবেদন ঘিরে বাংলাদেশে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে যাওয়ার আগে একবার ফিরে দেখা যাক বাংলাদেশের দিকে।
গত বছর ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার প্রবল গণআন্দোলনের চাপে পড়ে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন হাসিনা। চলে যান ভারতে। হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. মহম্মদ ইউনূস। আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাদিক কায়েমই সর্বপ্রথম ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের দায়িত্বভার গ্রহণের। পরের দিন সাদিক নিজেই জুলকারনাইনের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। জানান, ইউনূসের সঙ্গে তারা আলোচনার বিষয়টি। শোনা যাচ্ছে, হাসিনা বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ায় খবর পেয়ে সাদিক ফোন করে জুলকারনাইনকে ফোন করেন। বাংলাদেশের গণআন্দোলনের পিছনে সাদিকের বড় ভূমিকা রয়েছে। যদিও তিনি দেশ শাসনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা চিন্তাও করেনি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, হাসিনার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সাদিক কেন হুট করে মহম্মদ ইউনূসকে ফোন করে বাংলাদেশের শাসনভার নেওয়ার প্রস্তাব দেন? আসলে সাদিকের বুঝতে অসুবিধে হয়নি যে ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান পদে আসীন হলে জামাতের পূর্ণ সমর্থন পাওয়া যাবে। আবার জামাতকে ভীষণ পছন্দ করে আমেরিকা। পছন্দ করে পশ্চিমের অধিকাংশ দেশ। এর কারণ, জামাত কিন্তু কোনও খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায় না। তারা কিন্তু এমন রাজনৈতিক দল নয়, যারা নির্বাচনে বিশ্বাস করে না বা সংবিধানে বিশ্বাস করে না। তারা নির্বাচন চায়। তারা নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে চায়। তার পর তারা তাদের পছন্দ মতো রাষ্ট্র গঠন করে নিতে চায়। প্রয়োজনে তারা সংবিধানে সংস্কার আনতে চায়। সে কারণে পশ্চিমের দেশগুলির সঙ্গে সাদিক এবং জামাতের সু সম্পর্ক রয়েছে। এমনকী বাংলাদেশে গণ অভ্যুত্থানের পিছনেও কিন্তু জামাতের সমর্থন ছিল। তারা কিন্তু প্রকাশ্যে আসেনি। এসেছে অনেক পরে যখন তারা বুঝতে পেরেছে, বিপদ কেটে গিয়েছে। খোলস ছেড়ে বাইরে এলে অসুবিধে হবে না। জুলাই অভ্যুত্থানকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে জামাত আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে সুকৌশলে শাসন ক্ষমতায় পালাবদল। সে ক্ষেত্রে তারা পুরোপুরি সফল। তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ছিল তদারকি সরকারের দায়িত্ব এমন একজনের হাতে সঁপে দিতে হবে, যাকে আমেরিকা ভীষণ পছন্দ করে। এই ক্ষেত্রে জামাতের প্রথম পছন্দ ছিলেন ড. মহম্মদ ইউনূস।
ইউনূস সাম্প্রতিক সময়ে কিন্তু জামাতের সঙ্গে বেইমানি করে বসেছেন। জুন মাসে লন্ডনে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের খবর ফাঁস হতে সময় লাগেনি। ইউনূসের এই আচরণে জামাত রীতিমতো অসন্তুষ্ট। অসন্তুষ্ট জাতীয় নাগরিক পার্টি। এদের কাউকে আগাম না জানিয়ে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এটাকে ইউনূস রাষ্ট্রীয় সফর বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু কেন তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ইউনূস?
কারণ একটাই। সেফ প্যাসেজ। নির্বাচন হলে বিএনপি যদি ক্ষমতা দখল করে, তাহলে তারা যাতে তাঁর (ইউনূসের) জন্য সেফ প্যাসেজের ব্যবস্থা করে রাখে, সেটা জানাতেই লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউনূস। এর পর থেকে জামাতের সঙ্গে তাঁর বিশ্বাসের সম্পর্কে বড় ধরনের চিড় ধরে। ইউনূসের কাছে এখন একটাই রাস্তা খোলা। তাহলে হাত জোর করে জামাতের কাছ ক্ষমা চাওয়া।
https://www.facebook.com/story.php?story_fbid=10163218406450767&id=716730766&rdid=bOeYB38eGcJlodEG#












Discussion about this post