আচমকাই অস্থির হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়া। পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদের উত্থান। বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সুকৌশলে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অস্থির পরিস্থিতি নেপালেও। বাংলাদেশের মতো সেখানেও একটি সরকারেক ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নয়। প্রশ্ন উঠছে, এবার কী টার্গেট ভারত?
প্রশ্ন ওঠার সঙ্গত কারণ রয়েছে। সমাজের বৃহত্তর অংশে বেকারত্ব, সেই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির জাঁতাকলে পিষে যাচ্ছে মানুষ। সামগ্রিক বেকারত্বের হার আপাতদৃষ্টিতে কম মনে হলেও এপ্রিলে বেকারত্বের হার সাংঘাতিক। আমদানি করা পণ্যের মুদ্রাস্ফীতির হার বড় উদ্বেগের কারণ। খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ৯ শতাংশে ছাড়িয়ে গিয়েছে। শিক্ষিত অথচ বেকার যুবসমাজ। যাদের উচ্চাশা থাকলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। মোদি সরকারের আনা বিতর্কিত তিন কৃষি আইনের প্রতিবাদে অন্নদাতারা দীর্ঘ এক বছর ধরে দিল্লির সীমান্তে অবস্থানে বসেছিল। তাদের দাবি ছিল, কর্পোরেট পুঁজির হাত থেকে কৃষিকে রক্ষা করা, এমএসপি এবং ন্যূনতম সহায়কমূল্য নিশ্চিত করা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন। সরকারের মধ্যেও এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপালের বিক্ষোভগুলি স্বতঃস্ফূর্ত গণ আন্দোলন অথবা সুসংঘটিত ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সামনে এসেছিল। এসব কিছুর ওপরে রয়েছে ভারতে একের পর এক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় পালাবদল। মানুষ এখনও মনে করে, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার বদলানো যায়। ১৯৫০ থেকে কেন্দ্র এবং রাজ্যে পালাবদল দেখেছে। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে ভারতে ওই দেশগুলির মতো একটা সর্বব্যাপী গণবিস্ফোরণের সম্ভাবনা কম হলেও একেবারে যে নেই তা নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়া এই আগুন আমাদের দেশে জ্বলবে না, তা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।
দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ পাকিস্তান-নেপালের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। বাংলাদেশের কোটা বিরোধী আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। আপাত দৃষ্টিতে এই আন্দোলনকে মানুষের স্বতর্ফূত আন্দোলন মনে হলে এটা আসলে ছিল সেনাবাহিনী ও জঙ্গিদের সম্মিলিত একটা অভ্যুত্থান। এখানে সাধারণ মানুষের সামনে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দোষ ত্রুটির কথা তুলে ধরা হয়েছে। আসলে সুকৌশলে তিলকে তাল করার একটা চেষ্টা চলে। সেই চেষ্টায় অনেকটাই সফল সেনা এবং তাদের দোসর জঙ্গি বাহিনী।
আওয়ালীগের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার চলেছে কোটি কোটা টাকা বিদেশে পাচারের, দলের নেতাকর্মীদের আর্থিকভাবে ফুলে-ফেঁপে ওঠার আষাঢ়ে গল্প শোনানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিদেশি ঋণ অনেক বেশি। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে নষ্ট করে দিয়েছে হাসিনা সরকার। বাংলাদেশে আসলে কোনও সরকার নয়, ক্ষমতায় রয়েছে একটি পরিবার। বছরের পর বছর ধরে। আসলে এটা ছিল একটা চক্রান্ত, যার উদ্দেশ্য হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে চলে যেতে বাধ্য করা। বাংলাদেশের আন্দোলনে অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে স্নাইফার রাইফেলের গুলিতে, যা পুলিশের কাছে থাকার কথা নয়। থাকার কথা সেনাবাহিনীর কাছে। এখান থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যে সেনাবাহিনী ছদ্মবেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে।
যে প্রশ্নটা ঘোরাঘুরি করছে, তা হল বাংলাদেশ এবং নেপালের পর কী টার্গেট ভারত? প্রশ্ন ওঠার কারণ, মার্কিন ডিপ স্টেটের কিন্তু ভারতের প্রতি একটা কুনজর রয়েছে। ভারতে তারা বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল। পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। তার একমাত্র কারণ ভারতের গণতন্ত্রের ভিত বেশ মজবুত। এখন দেখার, মার্কিন ডিপ স্টেট তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে কি না।












Discussion about this post