ডাকসুর নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তার আন্দাজ আগেই পাওয়া গিয়েছিল। দেখার দরকার ছিল, সরকারিভাবে ফলাফল কী দাঁড়ায়। ডাকসুর ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে তারা নয়টিতে জয়ী হয়েছে। ছাত্রদলকে একরকম গুঁড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনে অভাবনীয় ফলাফলের জন্য পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামি ছাত্র শিবিরকে অভিনন্দন জানিয়েছে। যদিও বিএনপির অভিযোগ, ছাত্র শিবির আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ডাকসু নির্বাচনে জয় পেয়েছে। দলের নেতা তথা দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এই মন্তব্য করেন।
ছাত্র শিবিরের এই জয়ের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তাদের সঙ্গে দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সমর্থিত ছাত্রদলের প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি। সংশ্লিষ্টদের অনেকে বলছেন, ছাত্রদলের প্রস্তুতি তেমন ছিল না। তারা ছাত্র শিবিরের মন বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব আলোচনায় বসেছে। তারা হারের পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একাধিক সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, ডাকসুর ফলাফল নিয়ে যাতে কোনও অশান্তি না হয়, পরিস্থিতি অস্থিতিশীল না হয়ে ওঠে, তার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
আসলে এই জয়ের পিছনে রয়েছে কঠোর শ্রম, ছাত্র-ছাত্রীদের মন বোঝা, তারা কী চাইছে, সেটা পড়ার চেষ্টা করা। দলের তৃণমূলস্তরের কর্মী থেকে শীর্ষনেতৃত্ব সকলেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছিল। চেষ্টা চালায় ডাকসুতে একটা নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটাতে। তার প্রথম প্রকাশ দেখা গেল আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাধ্যমে। তখন থেকেই একটা বিষয় স্পষ্ট হতে থাকে জামাতের রাজনৈতিক বিজয় এবার অন্যভাবে প্রকাশ পাবে। তারা ক্ষমতার কেন্দ্রীয় বিন্দুতে চলে আসার নীল নকসা তৈরি করে ফেলে। বাংলাদেশের একাংশ এদের নিয়ে খুব একটা আশাবাদী ছিল না। তারা ধরে নিয়েছিল, এদের যেহেতু ক্ষমতা নেই, তাই এরা কোনওভাবেই ক্ষমতার একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পারবে না। তাদের ধারনায় যে ত্রুটি ছিল সেটা ডাকসুর নির্বাচন থেকে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা মিথ ভেঙে দিতে সফল হয়েছে। ডাকসু, জাকসু নির্বাচন ছাত্র শিবিরের কাছে নতুন সুযোগ এনে দিতে চলেছে। বাংলাদেশের সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনে তারা বিপুল ভোটে জয়ী হবে, এটা কেউ আন্দাজ করতে পারেনি।
ছাত্র শিবির কিন্তু ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। প্রস্তুতি শুরু হয় শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে। তাই, তারা ছাত্র ভোটের জোরালো দাবি তোলে। তাদের এই সাফল্য বাংলাদেশের বাকি বিশ্ববিদ্যালগুলিতেও ছড়িয়ে পড়বে। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্র শিবিরের জয় যে নিশ্চিত, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছিল। প্রশ্ন উঠছে, ছাত্রশিবিরের ডাকসু এবং হল সংসদের এই বিজয়ে কোন কোন ফ্যাক্টর কাজ করেছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ডাকসুর প্রাক্তন ছাত্রনেতারা মনে করেন, জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনা থেকে তৃণমূলস্তরে সব নেতৃত্বে শিবির ছিল। এমন ন্যারেটিভই ডাকসু নির্বাচনে তাদের জয়লাভের অন্যতম কারণ। বিশ্লেষকেরা এও বলছেন, অন্য ছাত্র সংগঠনের পদ-পদবি নিয়ে বা আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকেও নিজেদের কর্মকাণ্ডকে চালিয়ে গিয়েছে নিঃশব্দে। যারা আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর ছাত্র শিবিরের ব্যানারে প্রকাশ্যে এসেছে। তাদের আন্দোলন সামাজিক আন্দোলনে বদলে গিয়েছে। ফলে, তারা পেয়েছে মানুষের জনসমর্থন। জয় করে নিয়েছে পড়ুয়াদের মন। ডাকসুর নির্বাচন থেকে যে রাজনৈতিক সমীকরণ বেরিয়ে এল তা হল বিএনপি ছাত্রদলের মৃত্যু নিশ্চিত হল। রাজনৈতিক মহলে একাংশের মতে, দলের মৃত্যু অনেক দিন আগেই হয়েছে। দরকার ছিল সরকারি ঘোষণার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post