গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি পুনর্নবীকরণ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ আলোচনায় বসতে চলেছে। বৈঠক হবে দিল্লিতে। দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া চুক্তির মেয়াদ আগামী বছর ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে দুই দেশের নদী কমিশনের সদস্যরা বৈঠক করবেন। বাংলাদেশের ১০ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল দিল্লি আসবে। নেতৃত্বে থাকবেন আবুল হোসেন। তিনি আশাবাদী, প্রস্তাবিত বৈঠকে নিয়মমাফিক আলোচনা হবে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জলবন্টন চুক্তি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। সেই সময় বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিলেন শেখ হাসিনা সরকার। ২০২৪-য়ে হাসিনা ভারতে এসে জলবন্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা করে গিয়েছেন। যদিও ওই বছর অগাস্টে ক্ষমতা থেকে হাসিনাকে সরে যেতে হয়। দেশ থেকে তাতে চলে যেতে হয়েছে। বাংলাদেশ শাসনের ভার তুলে নেন নানা দুর্নীতিতে জড়িত মহম্মদ ইউনুস। চলতি বছরের মার্চে ইউনুস নদী কমিশনের বৈঠকে প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন ভারতে। ঢাকার তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বৈঠকে শুধু গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি নয়, তিস্তার জল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে চিন। এর আগে ২০২৪ সালে চিন ভারতের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। দিল্লি থেকে ফিরে হাসিনা বলেন, দুই দেশের প্রস্তাবই খতিয়ে দেখা হবে। যদিও গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক অনেকটাই শীতল হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি নিয়ে কী হয়, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আগামীদিনে কী মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের বনিবনা হবে? কোন পথে বইবে গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি? সেটা কিন্তু দেখার বিষয় হবে। যে সময়ের মধ্যে এই চুক্তি পুনর্নবীকরণ করার কথা, সেই সময়ের মধ্যে সব কিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে এই চুক্তি নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না।
তবে সব কিছু নির্ভর করছে বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, তিনি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করাতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, সে দেশের একটি স্বার্থাণ্বেষী গোষ্ঠী নির্বাচন বানচাল করতে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। ভোট বানচাল হলে চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়বে। আবার বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হলেও একই কথা প্রযোজ্য।
এদিকে, সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, কেন্দ্র এই চুক্তি সংশোধনের কথা চিন্তাভাবনা করছে। মোদি সরকার চাইছে নতুন একটি চুক্তি। তবে ইউনূস সরকার সেটা মেনে নেবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, পহেলগাঁও কাণ্ডের জেরে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি বাতিলের পর বাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তির ব্যাপারে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিকে মান্যতা দিয়ে ভারতের জন্য আরও বেশি করে বাংলাদেশের কাছে জলের দাবি করবে কেন্দ্র।
গত জুনে সংসদের বিদেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, চুক্তি নবীকরণের সময় আরও অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কিউসেক জলের দাবি করবে কেন্দ্র। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আলোচনা করেই গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি পুনর্নবীকরণের মডেল তৈরি হবে।
কেন্দ্র মনে করছে, সেচ, বন্দর রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আরও জলের বৈঠকে। দিল্লির প্রস্তাবিত বৈঠকে বিষয়টি তোলা হবে।












Discussion about this post