একই কায়দায় নেপাল সরকারের পতন হলেও, বাংলাদেশের সরকার পতনে ভারত যতটা ধাক্কা খেয়েছিল, নেপাল সরকার পতনে ততটাই স্বস্তি পেল। বাংলাদেশের সরকার পতন হয়েছিল ভারত বিরোধী আন্দোলোন থেকে আর নেপালের সরকার পতন চিন সরকারের বিরোধীতা থেকে ফলে বাংলাদেশে যে ভাবে সরাকার পতন হয়েছিল, নেপালেও একই কায়দায় সরকার পতনের হলেও, দুটি ঘটনায় ভারতের জন্য একই ঘটনা ঘটবে না। বাংলাদেশের কায়দায় নেপাল সরকারের পতনে অনেকেরই মনে হয়িছিল নেপালেও ডিপস্ট্রেট বা আমেরিকার হাত আছে। বাংলাদেশে যেমন প্রথমে ছাত্র আন্দোলোন এবং গনঅভ্যুত্থান হয়েছিল হাসিনার সরকার ফেলার জন্য, নেপালেও ছাত্র বিক্ষোভ এবং গণরোষের কারণে অলি সরকারের পতন। কিন্তু বাংলাদেশে যে সরকারটির পতন হয়েছিল সেটি ছিল ভারতের বন্ধু সরকার। আর নেপালে যে সরকারটির পতন হল, সেটি হল ভারত বিরোধী সরকার। এই অলি সরকারই ভারতের মানচিত্র বিকৃত করেছিল। এই অলি সরকারই ভারতের জাল টাকা ছাপানোর জন্য নিজেদের জমি পাকিস্তানকে দিয়েছিল। এই অলি সরকারই ভারতপন্থী সমস্ত বিরোধী নেতাদের জেলে বন্দি করে রেখেছিল।
নেপালের ৭৭ টি জেলার জেল থেকে যাদের ইতিমধ্যেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। নেপাল সরকার পতনের ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল একটি অমানবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নেপালের অর্থমন্ত্রীর গাড়ীর ধাক্কায় এক ব্যক্তি গুরুত্বর আহত হলেও অর্থমন্ত্রীর গাড়ী থামানো হয়নি। এই ঘটনা নিয়ে সোশাল মিডিয়া উত্তাল হলেও, প্রধনমন্ত্রী অলি এটিকে ছোট ঘটনা বলেছিল।এবং এই ঘটনাটি সোশাল মিডিয়াতে যাতে দেখা না যায় তার জন্য ২৬টি সোশাল মিডিয়াকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যদিও তার পরেও ঐ অমানবিক ঘটনার ছবি মানুষের কাছে পৌঁছানো থেকে আটকানো যায়নি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেনাপ্রধান সব দায়িত্ব নিচ্ছি বলেও জনগনের প্রতি কোন দায়িত্ব পালন করেনি। কিন্তু নেপালের সেনাপ্রধান বাংলাদেশের পথে হাঁটেন নি।তিনি বলে দিয়েছেন যা হয়েছে তা হয়েছে। এর পর আর কোন আগুন, ভাঙচুর এবং মব ভায়োলেন্স সহ্য করা হবে না। উল্টোদিকে ওয়াকার উজ জামান শেষদিন পর্যন্ত জামাতের পক্ষ্যে থেকে গেছেন।
এবং বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর জামাত বিএনপির অত্যাচারকে পশ্রয় দিয়ে গেছে। বাংলাদেশের সরকার পতনের পর হাসিনা ভারতে আশ্রয় পেয়েছেন আর নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি তার সরকার পতনের জন্য ভারতকে বার বার দায়ী করছেন। তিনি বলছেন আমি রামজন্মভূমি এবং অযোধ্যা নিয়ে কথা বলেছি বলেই আমার সরকার ফেলে দেওয়া হল। বাংলাদেশের তদারকী সরকারের প্রধান ইউনূস যতরকম সম্ভব ভারত বিরোধীতা করে যাচ্ছে। অন্যদিকে নেপালের তদরকী সরকারের প্রধান হতে যাওয়া শুশিলা কার্কি যিনি ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন, এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাকে বোন মনে করেন বলে জানিয়েছেন। নেপালের যুব সমাজের সঙ্গে নেপালের সেনাপ্রধানও শুশিলা কার্কিকে নেপালের তদরকী সরকারের প্রধান হিসাবে মেনে নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। যারা নেপালের অলি সরকার পতনের পর ভাবছিলেন যে ভারতের আর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশে আমেরিকার পুতুল সরকার বসতে যাচ্ছে তারা এটা জেনে কষ্ট পাবেন যে, অলি সরকার ছিল চিনের পুতুল সরকার এবং ভারতের কট্টোর বিরোধী, তাই নেপালের সরকার পতনে ভারতের ক্ষতির থেকে লাভই বেশী। এবং এই সরাকারের হাত ধরে নির্বাচনের মাধ্যমে যদি কোন ভারত বন্ধু সরকার গঠন হয়, তাহলে চিকেন্স নেক নিয়ে বাংলাদেশের হুমকিকে পাত্তা দেওয়ার কোন প্রয়োজন বোধ করবে না ভারত। তবে ভারতের কিছু রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থের কারণে সব ঘটনাকেই নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির দিক থেকে না দেখে, দেশের একতা এবং অখন্ডতা নিয়ে ভাবা উচিৎ।












Discussion about this post