জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক পদ থেকে আচমকা পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের দুই সাবেক সেনা আধিকারিক। ফলে ক্রমশ চাপ বাড়ছে নাহিদ-হাসনাতদের। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, বিগত কয়েকদিন ধরে এমনিতেই খবরের শিরোনাম থেকে হারিয়ে গিয়েছে এনসিপি। এমনিতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ বা বাগছাসের। মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন হিসেবেই গঠিত হয়েছিল বাগছাস। এই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক দল হল এনসিপি। বৃহস্পতিবারই যারা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু তার আগেই এনসিপির অন্দরে ক্ষোভের আগুন প্রকাশ্যে চলে এল। দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা এনসিপির সংগঠকের দায়িত্ব ছাড়ার সঙ্গে দল ছাড়ারও ঘোষণা দিলেন। যা নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই।
এনসিপি-র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠকের পদ থেকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন। এক সাংবাদিক সম্মেলনে পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘এনসিপির নেতারা নিয়মিত সেনাবাহিনী ও সাবেক সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করে চলেছেন। যা নিয়ে একাধিকবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানালেও এর কোনও সুরাহা মেলেনি। তাঁদের বিস্ফোরক দাবি, দলে নিজস্ব একটা বলয় তৈরি হয়েছে। বাইরের কোনও মতামত শোনার মানসিকতা নেই কারও। সাবেক সেনা সদস্যদের দল থেকে শূন্য করে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই পরিবেশে আর কাজ করা সম্ভব নয়।
এরমধ্যে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ গাজীপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনের অংশগ্রহণের দাবিও করেছিলেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, আমি গাজীপুর-৩ আসনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি, যেখানে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে আমার নাম উঠে এসেছে। আসন্ন নির্বাচনে আমার ভূমিকা নিয়ে আমি যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেব।
এই বিষয়ে এনসিপির তরফে দাবি করা হচ্ছে, কয়েকটা বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। এগুলো তদন্ত ও পর্যালোচনার পর্যায়ে ছিল। তাঁদের আরও দাবি, দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে এই ঘোষণা করেছেন দুই সাবেক সেনাকর্তা। এনসিপির এই বক্তব্য সামনে আসার পরও চাপ কমছে না ছাত্রদের রাজনৈতিক দলটির। কারণ গত বছরের আগস্টের পর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতারা। জুলাই-পরবর্তী সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছিল। অনেকেই ধারণা করেছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এনসিপির সমর্থনে বাগছাস সহজ জয় পাবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তাঁদের প্রার্থীরা মুখ থুবড়ে পড়ল। এনসিপির একাধিক নেতা এই বিষয়ে দাবি করছেন, বাগছাস নেতারা ডাকসু নির্বাচনে প্যানেল দিয়েছেন নিজেদের সিদ্ধান্তে। প্রায় প্রতিটি পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও, তা ঠেকাতে পারেননি। পদ-পদবি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে পারেননি। অর্থাৎ, এনসিপির মধ্যে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে, তা প্রকারন্তরে স্বীকারও করছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। এবার সাবেক সেনাসদস্যরা ওই অন্তর্দ্বন্দ্বের অভিযোগ তুলেই পদত্যাগ করলেন। যা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাওয়ার আগেই দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে আশঙ্কা তৈরি করছে।












Discussion about this post