ডাকসুর নির্বাচনে বিপুল সাফল্যে পেয়েছে ইসলামি সংগঠন। এটাকে খালি চোখে ছাত্র নির্বাচনের ফলাফল মনে হতে পারে। তবে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যাবে, এটা নিছক একটি ছাত্র নির্বাচন নয়। এটি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটল। এই নির্বাচনে ছাত্র শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টি পদে জয়লাভ করেছে। আবু সাদিক কায়েমের প্রাপ্ত ভোট ১৪ হাজারের বেশি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজারে কিছু বেশি ভোট। ভোটের ব্যবধান দেখলে বোঝা যাচ্ছে, আবিদুলকে পড়ুয়ারা দুহাত উজাড় করে ভোট দিয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে এসএম ফারহাদ পেয়েছেন ১০ হাজারের বেশি ভোট। সহ সাধারণ সম্পাদক পদে মাহিউদ্দিন খান পেয়েছেন ১১ হাজারের বেশি ভোট। এই বিজয় কোনও সাধারণ নির্বাচনী ফলাফল নয়। এটি ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম কোনও ইসলামি ছাত্র সংগঠন এই বিপুল সংখ্যক ভোটে বিজয় লাভ করেছে। উল্টোদিকে, বিএনপির সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। সংকট তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলেরও। তাদের এই ভরাডুবির কারণ বিএনপির দ্বিচারিতা। নির্বাচনের আগে ছাত্রদল জামাত এবং ছাত্র শিবিরের বিরুদ্ধে তারা একের পর এক কুৎসা ছড়িয়েছে। লাগাতার এই দুই ছাত্র সংগঠনকে তারা মৌলবাদী, পাকিস্তানের দালাল বলে দেগে দিয়েছে। কিন্তু ছাত্র সমাজ ভুলে যায়নি বিএনপিও একই দোষে দুষ্ট। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে ১৯৭২ সালে সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। চার বছর বাদে ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মহম্মদ সায়েম এই অনুচ্ছেদ বাতিল করে দেন। পরবর্তীকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ইসলামি রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। ২০০১ সালে বিএনপি- জামাত জোট গঠন করে। যারা যুদ্ধঅপরাধী ছিল তাদের মধ্যে থেকে মতিউর রহমান নিজামি এবং আলি অ্যাহেসনা মুজাহিদকে মন্ত্রী করে।
ছাত্র শিবিরের পিছনে যে জনসমর্থন ছিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর ঐতিহ্যবাহী বিজয় শোভাযাত্রা বের করে। কিন্তু ছাত্র শিবির বিজয় শোভাযাত্রার পরিবর্তে রাতভর নমাজ ও দোয়া মাহেফিলের মাধ্যমে বিজয়োৎসব পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এটা একটা রাজনৈতিক বার্তা। তারা এই বিজয়কে শুধু নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং তারা এটা আল্লাহর দেওয়া পবিত্র একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখছে। ছাত্র শিবিরের বিজয়ের পিছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। তারা সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি অবস্থান নিয়েছে। ছাত্র শিবির ইসলামি রাজনীতির ওপর আস্থা রেখেছে। দলের একজনের বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ নেই। তৃতীয়, জুলাই আন্দোলনের সময় তারা গোপন কৌশল রপ্ত করে। যা ছাত্রদল আয়ত্ত করতে পারেনি।
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করার মতো। সে দেশের জামায়াতে ইসলামী তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। পোস্টে তারা বলেছে, জামায়েতে ইসলামী বলছে, বাংলাদেশে নতুন ইতিহাস তৈরি হল। দেশের সব চেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্র শিবির পূর্ণ প্যানেলে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা প্রথমবার ঘটল। এই বিজয় ছাত্র-তরুণদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণকে ভারতীয় ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি দেবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। তারা অন্তর্বর্তী সরকারকেও কৃতীত্ব দিয়েছে।












Discussion about this post