আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আগামী সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতায় আসছেন। সঙ্গে আসছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান, প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ সিং। কলকাতায় আসার কারণ ইস্টার্ন কম্যান্ডের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক। সেই বৈঠকের আগে ভারতের চারপাশের পরিস্থিতির দিকে একবার তাকিয়ে দেখা যাক।
বাংলাদেশ অনেক দিন থেকেই অস্থির। নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে নেপালে। বাংলাদেশের মতো সেখানেও একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়েছে। বাংলাদেশ আর নেপালের মাঝে রয়েছে শিলিগুড়ি করিডোর। মাত্র ২২ কিলোমিটার রাস্তা। এটা এখন ভারতের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মোদি আগামী সোমবার কলকাতায় আসছেন। তারা আসছেন মানে ধরে নেওয়া যেতে পারে, কোনও বড় ধরনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে চলেছে। তার মধ্যে রয়েছে শিলিগুড়ি করিডোর। অজিত ডোভাল কলকাতায় এসে এই নিয়ে বৈঠকও করেছেন।
নেপালকে নিয়ে ভারতের বিশেষ মাথাব্যথা নেই। কারণ, সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে চলেছে সুশীলা কারকি। দিল্লি সেখান পরিস্থিতিকে অনেকটাই ম্যানেজ করতে পেরেছে। ভারতের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে ডিপ স্টেটের মাতামাতি। ভারতের চারপাশের পরিস্থিতিকে এতটাই অস্থির করে তুলেছে যে দিল্লি রীতিমতো বিরক্ত। ডিপ স্টেটের এই বাড়াবাড়ি ভারতের না পসন্দ।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি দিল্লিতে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেন। সেই বৈঠকে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান। সেই বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে। একটি সূত্র বলছে, সম্প্রতি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বৈঠক করেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামানের সঙ্গে। সেই বৈঠক হয়েছিল কাতারে। কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই দাবি করলেও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলি এরকম খবরের সত্যতা স্বীকার করেনি।
তবে প্রধানমন্ত্রী মোদির সোমবার ১৫ সেপ্টেম্বরের বৈঠক ঘিরে ক্রমশই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। কোনও কোনও সূত্র পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওই দিন বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ভারত আর দেরি করতে রাজি নয়। ডিপস্টেটকে ছেড়ে দিলে তারা এবার ভারতের ভিতরেও অস্থিরতা তৈরি করবে। সেটা দিল্লি একেবারেই চাইবে না। তাই, ঘুরিয়ে গালে চড় মারার জন্য বাংলাদেশকে দিল্লি বেছে নিয়েছে। কারণ, ডিপস্টেট দেখেছে, বাংলাদেশ এবং নেপালের অস্থির অবস্থা নিয়ে ভারত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তারা শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ চালিয়ে গিয়েছে। তাই, ডিপস্টেট চাইবে ভারতের ভিতরে এমন একটা অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করতে যাতে ভারত মুখ খুলতে বাধ্য হয়। ডিপ স্টেটের মনোবলে দিল্লি চূড়ান্তভাবে আঘাত দিতে চাইছে। আঘাত এমন হবে, যাতে অদূর ভবিষ্যতে ডিপ স্টেট আর দুঃসাহস দেখাতে না পারে। সোমবারের বৈঠকে এই সব কিছু নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। শুধু ডিপ স্টেট বা বাংলাদেশের ব্যাপারে নয়, পাকিস্তানের ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী তাঁর সোমবারের প্রস্তাবিত হাইভোল্টেজ মিটিংয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নেবেন। যেমন নিয়েছিলেন পহেলগাঁও হামলার পরে। ওই বর্বরোচিত হামলার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সামরিক বাহিনীকে সবুজ সংকেত দিয়েছিল বদলা নেওয়ার। বাহিনী মোদির সেই নির্দেশ কার্যকর করেছিল। মারের বদলা মারে মৃত্যু হয় একশোর বেশি জঙ্গির। এবার বাংলাদেশর বিরুদ্ধে নমো কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post