বাংলাদেশের সেনাবাহিনী নিয়ে বড় পরিকল্পনা নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে ইউক্রেনে পাঠিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়ার গোপন ষড়যন্ত্র নিয়েছেন। বাংলাদেশকে একটি কনফ্লিক্ট জোনে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে লাগাতার। সেই চেষ্টায় ইউনূস সরকার কী ভূমিকা নিচ্ছে সেটাই দেখার বিষয়।
এই নিয়ে দুটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে। তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তিপ্রক্রিয়া শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সেনা পাঠাবে না। বরং সেখানে বাফার জোন (মধ্যবর্তী শান্তি অঞ্চল) তৈরি করে সেখানে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সেনাবাহিনীকে নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাববে। অপর একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তিচুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে বাফার জোনের ওপর নজরদারি চালাবে। এই ক্ষেত্রে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে ন্যাটো গোষ্ঠীতে নেই এমন দেশগুলির বাহিনীকে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ও সৌদি আরব।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অদূর ভবিষ্যতে মুখোমুখি হবেন, এটা ট্রাম্প বিশ্বাস করতে পারছেন না। শুধু ট্রাম্প নয়, অনেক দেশের রাষ্ট্রনেতার একই বিশ্বাস। যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পর ইউক্রেন ভূখণ্ডে রুশ অধিকৃত অঞ্চল ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে একটি নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল তৈরি হবে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনাবাহিনী সেখানে পাঠাবে না। তবে ড্রোন, স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দা প্রযুক্তির মাধ্যমে এই জোন পর্যবেক্ষণের নেতৃত্ব দেবে। নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অংশ নেবে অন্যান্য দেশও। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, এই বাফার জোন ইউক্রেনকে ভবিষ্যতে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে সুরক্ষা দেবে। তবে এখনও খুব কম দেশই প্রকাশ্যে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এই পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় শান্তিরক্ষা বাহিনী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। এদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলিকে নিয়ে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত চূড়ান্ত করতে চাইছে। তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই উদ্যোগ সমর্থনের আহ্বান জানাবেন। তবে ট্রাম্প এখনও কোনও পরিকল্পনায় আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি। আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পরেও শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ প্রথমবার ইউরোপীয় ভূখণ্ডে একটি কৌশলগত শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে পারে। পরোক্ষে যা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভূমিকাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সম্পর্কে যে কোনও পরিকল্পনায় সম্মতি দিতে পারেন। তবে ন্যাটোর সম্পৃক্ততা বা এমন কিছু যা ন্যাটোর মত দেখায়, এগুলি পুতিনের জন্য অতি স্পর্শকাতর বিষয়। তাই, পরিকল্পনাকারীরা সচেতনভাবে ন্যাটো বাহিনী বা ন্যাটোর মতো কোনও প্রতীক ব্যবহারের বিষয়ে এড়িয়ে যেতে পারেন।
তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত পুতিন ও জেলেনস্কি যুদ্ধে ইতি টানার কথা ঘোষণা করছেন, নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় জড়িত অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা সম্মতি দিচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে থাকছে। গত ১৫ অগাস্ট আলাস্কায় পুতিন এবং ট্রাম্পের আলোচনার পর বিষয়টি গতি পায়। যদিও সরাসরি আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। উলটে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলা অব্যাহত আছে। পুতিন জানিয়েছেন, ইউক্রেনে বিদেশি সেনার উপস্থিতি তিনি মেনে নেবেন না। এই অবস্থায় বাফার জোন কী ভাবে গঠিত হবে, সেটা লাখ টাকার প্রশ্ন।












Discussion about this post