বাংলায় একটি প্রবাদ আছে – চোরের মায়ের বড় গলা।
যার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, সেই ইউনূস এখন হাসিনা সরকারের আমলে নানা দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছে। অভিযোগ তুলেছেন হাসিনার শাসনামলে আইনশৃঙ্খলার দূরাবস্থা, অর্থ তছরূপ বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে প্রচারে সক্রিয় হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে, ইউনূস সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রেস উইং এক বিবৃতিতে দাবি করে, বর্তমান সরকারের সময়ে অপরাধের ঘটনা অনেক বেশি নথিভুক্ত হলেও তার মধ্যে একাংশ হাসিনা জমানার। ক্ষমতা বদলের পর মানুষ সেই সব অপরাধ নথিভুক্ত করেছেন। ইউনূস সরকারের প্রেস উইং বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, হাসিনার আমলে মানুষ থানায় যেতে ভয় পেত। ক্ষমতায় পালাবদলের পর মানুষ এখন থানায় যাওয়ার সাহস পাচ্ছে। অপরাধ নথিভুক্ত করছে। এর মধ্যে খুন ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
নেপালের ঘটনার পর হাসিনা সরকারের আমলে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তদারকি সরকারের প্রেস উইং। বাংলাদেশ সরকারের আমলা, কূটনীতিক, প্রচারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা লন্ডনের ফিনান্সিয়াল টাইমসের একটি তথ্যচিত্র দেশে-বিদেশে প্রচার করেছেন। তদারকি সরকারের এই কৌশল নিয়ে দুরকমরে ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। একটি মত হল, বাংলাদেশ সরকার নতুন করে দেশবাসীর সামনে হাসিনা সরকারের কুকীর্তি তুলে ধরে নিজেদের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছে। অন্য একটি মত হল, তদারকি সরকারের বিরুদ্ধে ধীরে হলেও ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইউনূস সরকার এই ধারণা তৈরি করতে চাইছে যে চলতি পরিস্থিতির জন্য তারা দায়ী নয়, দায়ী পূর্বতন সরকার।
এবার যে তথ্যচিত্রের কথা উল্লেখ করা হল, সেই তথ্যচিত্র প্রসঙ্গে আসা যাক। তথ্যচিত্র শুরু হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে। তথ্যচিত্রে অংশ নিয়েছেন ছাত্র আন্দোলনের সংগঠন রাফিয়া রেহনুমা, রেজওয়ান আহমেদ রিফাদ, দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরো প্রধান জন রিড, বাংলাদেশের প্রাক্তন সাংবাদিক সুজানা সাভিজ, স্পটলাইট অন করাপশন-য়ের সহকারী পরিচালক হেলেন টেইলর এবং ওয়েস্টমিনিস্টার লবির প্রতিবেদক রাফ উদ্দিন। তারা শেখ হাসিনার পরিবারের ভূমিকা, বিদেশে জমির মালিকানা, অফসোর সম্পদ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছেন এই তথ্যচিত্রে। হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, হুণ্ডির মতো অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পত্তি কেনাবেচার মাধ্যমে লন্ডনে পৌঁছেছে।
তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, সরকার ও অভিজাত ব্যবসায় যুক্ত কয়েকজনের মধ্যে শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ রয়েছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে টিউলিপ বলেন, এগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে তথ্যচিত্র বিশেষজ্ঞরা বলেছেন লুঠ করা অর্থ উদ্ধার একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে অনেক কূটনৈতিক ও ফরেন্সিক বিষয় যুক্ত। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পুঁজিপাচারের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলি অনেক সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে ব্যর্থ বা তাদের কোনও ইচ্ছা ছিল না।
নেপালের ঘটনার নিরিখে বাংলাদেশের প্রায় সব সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম ছিল ঢাকার পুনরাবৃত্তি কাঠমান্ডুতে। নেপালের ঘটনাবলী যেভাবে এগিয়েছে, তাতে অনেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন। তার অর্থ এই নয় যে নেপাল আর বাংলাদেশ এক। শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরেন ২০০৮ সালে। সেই বছর নেপালে রাজতন্ত্রের অবসান হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় গণতান্ত্রিক সরকার। তার পর থেকে নেপালে ১৩ বার সরকার বদল হয়েছে। এক জন বা দুইজন নেতা তিন থেকে চারবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশে মুজিব হত্যা পরবর্তী সময়ে সংকটের সঙ্গে দলের আজকের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন।












Discussion about this post