জামায়াত আর ইউনূস এবং তার সরকারের মধুচন্দ্রিমা শেষ। কিছুদিন আগেও যারা ছিল হরিহর আত্মা, এখন তাদের সম্পর্ক সাপে নেউলে। জামাত চাইছে ইউনূস সরকার অবিলম্বে জুলাই সনদ কার্যকর করুক। তাতে প্রবল আপত্তি রয়েছে জামায়াতের। জামাতের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। তারা এখন ইউনূস সরকারকে অবৈধ এবং জালিয়াতির সরকার হিসেবে উল্লেখ করছে। তারা সংবিধানের ১৫৩টি অনু্চ্ছেদের মধ্যে ৫৭টি অনুচ্ছেদকে অকার্যকর ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সংবিধানকে সরিয়ে জুলাই সনদ প্রতিষ্ঠত করতে চাইছে।
রবিবার জাতীয় ঐক্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জামায়াতের সহ সম্পাদক হামিদুর রহমান। ওই বৈঠকেই তিনি তাঁর দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। কমিশনের কাছে দলের তরফ থেকে একটি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছ, নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উচিত জুলাই সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া। জুলাই সনদকে সামনে রেখে শপথ নেওয়া। যারা নেবে না, তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কমিশন নিষেধাজ্ঞা জারি করুক। জাতীয় ঐক্য কমিশনের বৈঠকে হামিদুর রহমান বলেন, ‘যে দলের নেতা জুলাই সনদের বিরুদ্ধে প্রচার করবে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা রুজু করত হবে।’ তাঁর মতে, যারা জুলাই সনদের বিরোধিতা করবে, তারা ফ্যাসিবাদের সমর্থক। ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করে। অতীতে বাংলাদেশের রাজনীতি ছিল মুক্তিযুদ্ধ প্রভাবিত, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতির ভিত্তি হবে জুলাই সনদ।’
শেখ হাসিনা নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি পদত্যাগ করেননি। তাঁকে জোর করে বিমানে তুলে দেশছাড়া করা হয়েছে। তাহলে সরকার কীভাবে আদালতকে জানায়, যে উনি পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতিই বা কোন আইনে সংসদ ভেঙে দিলেন, সেই প্রশ্ন উঠছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, সংখ্যাগরিষ্ঠের অংশের সংসদীয় নেতা সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিলে তবেই রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিতে পারেন। সুতরাং, সংসদ ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রপতি সংবিধান বিরোধী কাজ করছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর যে প্রশ্নটি ঘোরাফেরা করছে, তা হল তিনি আওয়ামী লিগের লোক হওয়ার পরেও কী করে সংবিধান ভেঙে দিলেন?
বাংলাদেশে ইউনূস সরকারের যে বৈধতা নেই, তা আর বলার অপেক্ষে রাখে না। সই জাল করে আদালতে হলফনামা দিয়ে তারা সরকারে আসীন হয়েছে। ২০২৪-এর ৮ অগাস্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের কাছে পরামর্শ চাওয়ার পর যে রেফারেন্সটি পাওয়ার দাবি করে ইউনূস সরকার। সিনিয়র মোস্ট বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জানাচ্ছে, গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের সংবিধানের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কোনও বিধান না থাকায় সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত উপদেষ্টামূলক এক্তিয়ার প্রয়োগ করে আপিল বিভাগ এই মতামত দিয়েছে, যে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরী প্রয়োজন মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের কার্যনির্বাহী পরিচালনার নিমিত্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়োগ করবে। ’
সব মিলিয়ে গন্ধটা মারাত্মক সন্দেহ জনক। বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছে সম্প্রতি প্রকাশ করা সেনাবাহিনীর একটি তালিকা। ৫ অগাস্টের পর বাংলাদেশে আক্রান্ত হয়ে বা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় কারা সেনার নিরাপদ হেফাজতে ছিলেন, তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। নাম রয়েছে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওয়াবদুল হাসান, আপিল বিভাগের আর এক বিচারপতি ইনায়েতুল করিমের। প্রশ্ন এখানে। যারা আক্রান্ত হয়ে প্রকাশ্য ছিলেন না, আপিল বিভাগের এই রেফারেন্সে তাদের স্বাক্ষর এল কীভাবে। ইউনূসকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য তবে কী তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সহ দুই বিচারপতির সই জাল করা হয়েছিল?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post