আরাকান আর্মির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা খল্লুর রহমান চারমাস আগে বলেছিলেন, কে কী বলল, যায় আসে না। এখন খল্লুর রহমান হারে হারে টের পাচ্ছেন ওই কথা বলে তিনি কী ভুল করেছেন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সাগরে বাড়ছে জলদস্যু আতঙ্ক। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে অস্ত্রধারী জলদস্যুরা মাছ ধরার ট্রলারের ওপর হামলা চালিয়েছে। জেলেদের থেকে মাছ, জাল, ডিজেল, মূল্যবান মালামাল লুঠ করে নিচ্ছে। সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, সুন্দরবন, কুয়াকাটা, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, হাতিয়া নোয়াখালি, স্বন্দীপ, আনোয়ারা, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী, পেকুয়া, মহেশখালী, উখিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিনে তারা নির্বিবাদে হামলা চালিয়েছে।
আরাকান আর্মি শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, ইউনূস সরকারের কাছে চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। গত ১৩ অগাস্ট আরাকান আর্মি পাঁচ মৎস্যজীবীকে অপহরণ করে। এই পাঁচজন হলেন, মহম্মদ ইলিয়াস (৪১), তাঁর দুই ছেলে আকাল আলী (২০) এবং মহম্মদ নূর হোসেন (১৮), সাবির হোসেন (২২), মহম্মদ সইফুল ইসলাম (২৫)। এরা সকলেই জালিপাড়ার বাসিন্দা। চাঁদাবাজির কারণে মায়ানমারের সঙ্গে তাঁদের নৌপথে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
এ মাসের গোড়ার দিকে, সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) মহম্মদ জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, মায়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি মাদক বিক্রি করে বেঁচে রয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মহম্মদ জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে, মাদক নিয়ে ধরা পড়ার সংখ্যা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে মাদক বেশি আসছে, ধরাও পড়ছে। কিন্তু মাদক পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এখন আবার বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন মাদক আসছে। এটা দমন করতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নষ্ট করে।’ রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের অপহরণ করে নেওয়ার ক্ষমতাও রাখে।
জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বলেন, মায়ানমারে আরাকান আর্মি পুরো সীমান্ত দখল করে রেখেছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশের প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতর কীভাবে মূল্যায়ন করবেন, সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বলেন, ‘আগে কোনও একটি ঘটনা ঘটলে রিপোর্ট পেতে অনেক সময় লাগত। এখন উন্নত প্রযুক্তির সুযোগে রিপোর্ট অনেক আগেই খবর পাওয়া যাচ্ছে। এটা একটা ভালো দিক হলেও এর একটা খারাপ দিকও রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি যেমন রয়েছে, ভবিষ্যতে তেমন থাকলে নির্বাচন করতে কোনও অসুবিধে হবে না। ’
এদিকে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহম্মদ তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের বাফার জোনে বাংলাদেশী সেনা পাঠাতে জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাব পেলে সম্মতি দেওয়া হবে। তবে সেনা পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসঙ্ঘ। সেই সঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, আশা করা যায়, যুদ্ধবিরত হবে। সে ক্ষেত্রে জাতিসঙ্ঘ একটা ভূমিকা পালন করবে। শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেখানে যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে বাংলাদেশ সেনা অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে জলচুক্তি নিয়ে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে পরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই বিষয়ে কোনও তাজা তথ্য নেই। আমি যখন তথ্য পাব, তখন আপনাদের জানাতে পারব।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post