আওয়ামী লীগকে অনেক আগেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তদারকি সরকার। তাদের সভাসমাবেশের ওপর রয়েছে নিষেধজ্ঞা। আওয়ামী লীগের কেউ যাতে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তার জন্য তারা চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি। আওয়ামী লীগকে নিয়ে এতদিন চিন্তার কারণ ছিল তদারকি সরকার এবং তাদের দোসর এনসিপি। এখন বিএনপিও আতঙ্কে রয়েছে। তদারকি সরকার যেখান থেকে পারছে আওয়ামী লীগের নেতাদের গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা রুজু করে দিচ্ছে। তবুও তাদের দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না। দলের সাংগঠনিক তৎপরতা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। বেড়ছে মিছিলের সংখ্যা। আর তা সরকারের কাছে রূপ নিয়েছে দুশ্চিন্তার। দেশের বাইরে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং সমন্বয়দের অনুষ্ঠান ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি সেই দুশ্চিন্তাকে কয়েক গুন বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের আশঙ্কা, দেশে এবং দেশের বাইরে দলটির এই ধরনের সাংগঠনিক তৎপরতায় তারা আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে পারে।
ইতিমধ্যে সরকারের কাছে একাধিক গোয়েন্দা রিপোর্ট জমা পড়ছে। সেই রিপোর্ট বলছে, দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার একক নির্দেশে দলের সাংগঠনিক তৎপরতা আগামীদিনে আরও বাড়বে। এই রিপোর্ট সরকারের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। তদারকি সরকার যে সব দিক দিয়ে ব্যর্থ, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশবাসীর কাছে সেটা তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তথ্যভিজ্ঞ মহল বলছে, সেই ব্যর্থতা ঢাকতে তদারকি সরকার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সফট টার্গেট করেছে। উলটোদিকে, হাসিনার দলের জনসমর্থনের পাল্লা আগের থেকে অনেক ভারী।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে দিয়েছে ডাকসু আর চাকসুর নির্বাচনী ফলাফল। দুটি নির্বাচনেই বিএনপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের ভরাডুবি হয়েছে। দল মনে করছে, এই দুই নির্বাচনে শিবিরের জয়ের পিছনে ছাত্র লীগের সঙ্গে কোনও গোপন বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। এমন আঁতাত জাতীয় নির্বাচনে হলে তাদের, সেই সঙ্গে তদারকি সরকার এবং জাতীয় পার্টির সমূহ বিপদ। ৯১ সালের নির্বাচনের ফলের মতো আসন্ন নির্বাচনেও তার পুনরাবৃত্তি হবে। সব মিলিয়ে ভোটর আগে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বেশ নজরকাড়া।
এপ্রিলের আগে পর্যন্ত হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের তেমন সক্রিয়তা দেখা যায়নি। দিল্লিতে থেকে হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ রাখতেন। এপ্রিল থেকে গোটা পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই মাস থেকে দল শুরু করে ঝটিকা মিছিল। তদারকি সরকারের তরফ থেকে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের। কিন্তু তাতেও দমিয়ে রাখা যায়নি। উলটে তারা আন্দোলনে অক্সিজেন পায়। পুলিশের একটি তথ্য বলছে, এই সব ঝটিকা মিছিলের নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মিছিলের সংখ্যা দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। বাধ্য হয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৫০টির বেশ মিছিল হয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনে আওয়ামী লীগ মিছিল করে। পুলিশকে গোয়েন্দারা একটি গোপান রিপোর্ট দিয়েছেন। সেই রিপোর্টে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দিল্লি থেকে হাসিনার নির্দেশেই এই সব কর্মকাণ্ড হচ্ছে। হাসিনাই নির্দেশ দিচ্ছেন, কোথায় কখন মিছিল করতে হবে। দলের তরফ থেকে প্রশাসনকে কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, নির্যাতন করলে ফল ভালো হবে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post