ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে রহস্যমৃত্যু এক জওয়ানের। সীমান্তরক্ষী বাহিনী সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম লালু মুর্মু (৩৫)। মৃত জওয়ান সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ১২১ নম্বর ব্যাটিলিয়নের। কর্মরত ছিলেন চিতাবাড়ি আউটপোস্টে। বাহিনীর কয়েকজন তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কী কারণে লাল মুর্মুর মৃত্যু হল সেটা ময়নাতদন্ত করে জানার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনা থেকে একটা প্রশ্ন উঠে আসছে, এটা কী স্বাভাবিক মৃত্যু না কি লালু মুর্মুকে খুন করা হয়েছে?
প্রশ্ন ওঠার আরও কারণ রয়েছে। সীমান্তে বাহিনীর জওয়ানরা দলবদ্ধভাবে থাকেন। যাতে একজনের ওপর কোনও কারণে হামলা হলে বাকিরা ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। সহকর্মীর প্রাণ রক্ষার চেষ্টা চালায়। তাহলে লালু মুর্মু যেখানে পাহারা দিচ্ছিলেন, সেখানে তিনি কি একাই ছিলেন। মৃত্যুর কারণ এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট না হলেও একটা বিষয় দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। আর তা হল ভারত কিন্তু মোটেই সুরক্ষিত নয়।
এই ঘটনার কয়েকদিন আগে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বাজেয়াপ্ত করে ৪০ লক্ষ টাকার সোনা, ১০৮ কেজি গাঁজা। অভিযান চলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কুচবিহারের কাছে। এটাই শেষ নয়। এই ঘটনার কয়েকদিন আগে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স দেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ আইএস জঙ্গিকে গ্রেফতার করে। তল্লাশি চলে দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানায়। ধৃত পাঁচ জঙ্গি হল আফতাব, আবু সুফিয়ান, আশার ড্যানিশ, কামরান কুরেশি, হুজায়েফ ইয়েমেন। আফতাব এবং আবু সুফিয়ান ছিল মুম্বই। স্পেশ্যাল টাস্কফোর্স সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছেন, এদের বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। সেই দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম হল ভারতে তরুণ সমাজকে আইসিসি যোগদান করানো, বোমা তৈরি করা, অস্ত্র জোগাড় করা। সেই সঙ্গে ভারতে আইসিসের জাল আরও বিস্তার করা। আর বড় ধরনের বিস্ফোরণ।
একের পর এক ঘটনা থেকে একটা বিষয় উঠে আসছে, যে বিদেশি শক্তি ভারতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। আর কুচবিহারের ঘটনায় বলা হচ্ছে, গত এক বছরের মধ্যে এই প্রথম বিএসএফের সক্রিয়তায় সোনা পাচার বানচাল করা সম্ভব হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীরা এর আগেও ভারতে সোনা এবং গাঁজা পাচারের চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে ভারতের কয়েকজন দালাল বেশ সক্রিয়। তবে একটা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে, বিএসএফের এত সক্রিয়তা থাকার পরও কেন এই পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না? কী করে চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে? এদের পিছনে কারা রয়েছে? স্থানীয়রা? নাকি বাংলাদেশে বসে ভারতকে অস্থির করে তোলার ঠাণ্ডা মাথায় একটা পরিকল্পনা চলছে।
মেঘালয়ের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরা যাক। এক বিএসএফ জওয়ানের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা হয়। হামলা চালায় এক বাংলাদেশ পুলিশকর্মী। সে কী করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে গেল সেই প্রশ্নটা বারে বারে ঘুরে ফিরে আসছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সদস্য ভারতে ঢোকার চেষ্টা চালায়। এদের একজনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, একজনকে গ্রেফতার করে।
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এই সব ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে। আর তাদের মদত দিচ্ছে আইসিস। এসএসবি সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, দ্বিতীয়জন নাইজেরিয়ার। আসল কারণ, হল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ সক্রিয় থাকায় তাদের কাছ নেপাল সেফ প্যাসেজ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post