বছর ঘুরলে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। অন্তত তদারকি সরকারের প্রধান ইউনূসের বিবৃতি অনুসারে। এই নির্বাচন এখন বাংলাদেশে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। কে আসবেন ক্ষমতায়? হাসিনা না জিয়া ? নাকি সেনাবাহিনী ভোট বানচাল করে সরকারিভাবে দেশ শাসনের ভার হাতে তুলে নিতে চাইছে। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান কী খেলা খেলতে চলেছে। রবীন্দ্রনাথের গানের কথা ধরে বলতে হয় – ‘কোন খেলা যে খেলব কখন/ ভাবি বসে সেই কথাটাই, /তোমার আপন খেলার সাথী কর, তাহলে আর ভাবনা তো নাই। ’
বাংলাদেশের একটি শিশুই জানে বাংলাদেশে গব্বর মানেই সেনাপ্রধান। সে যেই হোন না কেন। বাংলাদেশ সেনার মানসিকতা অনেকটাই পাকিস্তান সেনার মতো। যেভাবে হোক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। পাকিস্তানে যেমন নামেই একটি সরকার শাসন ক্ষমতায় থাকে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কিন্তু এত কিছুর পরেও যখন তাদের খিদে মেটে না, তখন তারা অভ্যুত্থান ঘটায়। বাংলাদেশে একাধিকবার সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করে। তারা সাফল্যও পেয়েছে। সেনা প্রধান ওয়াকারের পরবর্তী চাল কী?
অনেকে মনে করছে বিএনপি ক্ষমতায় এলে লাভ হবে সেনাপ্রধান ও তার বাহিনীর। বাস্তব কিন্তু অন্যকথা বলছে। কারণ, গ্রেনেড হামলার পরে তারেক রহমানের মেরুদণ্ড ভেঙে গুঁডো গুঁড়ো করে দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ওয়াকার উজ জামান। সেনা প্রধান কি চাইছেন, এরশাদ ও জিয়ার মতো নিজের রাজনৈতিক দল তৈরি করে বা রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে?
এমন সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সন্দেহের কারণ, তার নজরে রয়েছে আওয়ামী লীগ। স্বচ্ছ আওয়ামী লীগের নামে আওয়ামী লীগের দখল নিয়ে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সার্জিস আলমকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে ডেকে নিজের মনের ইচ্ছার কথা জানিয়ে দেন সেনাপ্রধান। এই বৈঠকের কয়েকদিন পরে হাসনাত ও সার্জিস সেই কথা ফাঁস করে দে। ফলে, এই চেষ্টা এখন আর গোপন নেই। ওয়াকারের টার্গেট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়ে স্বচ্ছ আওয়ামী লীগ গঠন করা। কেন তিনি চাইছেন?
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল শুরু হয়েছে। তদারকি সরকার নানা ভাবে তাদের দমিয়ে রাখের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও সেই চেষ্টা সফল হচ্ছে না। এই সব ঝটিকা মিছিল বা সভা কিন্তু আকারে বা আয়তনে একেবারেই ছোট নায়। সেনা বা পুলিশের তরফ থেকে সেভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে না। যেটুকু না করলেই নয়, সেটুকু করেই দায়িত্ব পালন করছে। ডাকসু ও জাকসুর নির্বাচনে জামায়াতের জয় জয়কার। বিএনপির ব্যাপক ভরাডুবি। এই দুইয়ের কারণে বাংলাদেশে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে গিয়েছে। যা সেনাপ্রধানকে আরও আশান্বিত করেছে।
ওয়াকার উজ জামানের পরবর্তী লক্ষ্য নিজের কতৃত্ব পুরোপুরিভাবে প্রতিষ্ঠা করা। তবে এবার কিন্তু হিসেব আলাদা। জাতীয় রাজনীতিতে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি নির্বাচন করাতে তদারকি সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই বার্তার মধ্যে দিয়ে ওয়াকার এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন। ইউনূসের ওপর চাপ তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, দেশবাসীর আস্থা অর্জন করা। যারা একসময় বাহিনীর বিরুদ্ধে ছিল বা রয়েছে, তারা বলতে শুরু করেছে, সেনাবাহিনী গণতন্ত্রের পক্ষে। একে বাংলাদেশ সেনা, তারওপর তারা নাকি গণতন্ত্রের পক্ষে। এটা ভূতেও বিশ্বাস করবে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post