বাংলাদেশে গল্পের গোরু এবার সত্যি সত্যি গাছে উঠল। জুলাই শহীদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করা যেতে পারে। ব্যক্তি একজন। কিন্তু পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে দুই জায়গায় এবং একই সময়ে। চট্টগ্রাম এবং ঢাকায়। এরকম একজন বা দুই জন নয়, সংখ্যাটা ৫২। গল্পের গোরু যদি গাছে উঠতে পারে, তাহলে বলা যেতেই পারে যাহা ৫২, তাহাই তিপ্পান্ন। এমনকী জমি বিরোধে যাকে খুন করা হয়েছে, তারও নাম তালিকায় উঠেছে।
রাজধানীর ওয়ারীতে গত বছর ১৪ অগাস্ট খুন হন বিএনপি নেতা মো আল আমিন ভুঁইয়া ও তার ছোট ভাই নুরুল আমিন। তার পরিবারের লোকেরাই বলছেন, জমি নিয়ে বিবাদের জেরেই খুন হন দাদা ভাই। যদিও আল-আমিনকে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির দৈনিক এই শহীদের তালিকা নিয়ে একটি অন্তর্তদন্ত করে। সরকারি তালিকায় নাম রয়েছে ৮৩৪ জনের। এর মধ্যে এমন ৫২জন আছেন, যাদের মৃত্যু হয়েছে অন্য কোনও ঘটনায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিহতদের শহীদের তালিকায় নাম তুলতে তাদের পরিবার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের ওই প্রথম সারির দৈনিক ৪১টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা স্বীকার করে নিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানে তাদের পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হয়নি। নাম তোলার জন্য তাদের প্ররোচনা করা হয়েছিল।
আবার তালিকায় থাকা ৬১৫ নম্বরের শহীদ জামাল উদ্দিনের কথাই ধরা যাক। জামাল উদ্দিন পেশায় রিকশা চালক। ঢাকা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে রিকশা চালাতে গিয়ে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেইদিন তাঁর মৃত্যু হয়। অথচ জামালের নাম রয়েছে শহীদের তালিকায়। তাঁর বোন রিনা বেগম জানিয়েছেন, ‘জামাল আন্দোলনে গিয়ে আহত বা আক্রান্ত হননি। তার নাম কীভাবে শহীদের তালিকায় উঠল, তা তিনি জানেন না। ’
বিষয়টি ফাঁস হতেই তদারকি সরকার নড়েচড়ে বসে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, সরকার তালিকাটি আবার যাচাই করেছে। এ বিষয়ে গত ২২ জুন দেশের সব জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। জুলাই গণ অভ্যুত্থান শাখার প্রধান যুগ্মসচিব মোহাম্মাদ ফারুক হোসেন বলেন, তথ্য এলে শহীদদের তালিকা পুনর্বিবেচনা করা হবে। আন্দোলনের সঙ্গে যাদের কোনও সম্পর্ক নেই, তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।
আসলে জুলাই নিয়ে দেশজুড়ে ব্যবসা চলছে। দেখা গিয়েছে ভাইয়ে-ভাইয়ে কোন্দলের জেরে একভাইয়ের হাতে অপর এক ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এক ভাই বলে দিচ্ছে তাঁর মৃত ভাই জুলাই শহীদ। ফলে, ভাইয়ের ভাগের সম্পত্তি নিয়ে তিনি হরপ করছেন। এমন ঘটনা ময়মনসিংহে ঘটেছে। এক নয় একাধিক।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখছেন প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তাফা সিরাজ। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক খবর। জমি বিরোধে খুন, দুর্ঘটনায় মৃত্যু। তবুও তারা জুলাই শহীদ। ৫২ জনের নাম রয়েছে। তারা এই জুলাই প্রকৃত যুদ্ধে শহীদ হননি। এক বছর আগের সেটাই আমরা ঠিক করতে পারলাম না।’ এই প্রসঙ্গে প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের তালিকা নিয়ে প্রায় বলি ভুয়ো মুক্তিযোদ্ধা ঢুকে গিয়েছে। কে মুক্তিযোদ্ধা, কে মুক্তিযোদ্ধা নয়, আমরা সন্দেহের মধ্যে থাকি। আর এখন জুলাই শহীদ, জুলাই যোদ্ধা আপনি চিনবেন কীভাবে। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post