অস্থির বাংলাদেশে নতুন করে অস্থির করে তুলেছে জামায়াতে ইসলামি, ইসলামি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস সহ আরও কয়েকটি ইসলামি দল। তারা বেশ কয়েকটি দাবি নিয়ে সরব হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন। বাকি ইস্যুগুলির মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা, ভোটে সব দলের সমান সুযোগ, জুলাই গণহত্যার বিচার, সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব।
প্রায় সমান দাবি জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ সহ আরও কয়েকটি দল। অন্যদিকে বিএনপি এবং বামপন্থী কয়েকটি দল পিআর পদ্ধতির প্রবল বিরোধীতা করেছে। তারা নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই সাংবিধানিক সংস্কারের দাবি তুলেছে। ইসলামি দলগুলির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, সংসদে আসন পেতে ও সরকারের অংশীদার হওয়ার একমাত্র রাস্তা পিআর পদ্ধতিতে ভোট। এই দাবির আরও একটি লক্ষ্য হল বিএনপিকে দূর্বল করা এবং সামান্য কিছু ভোট নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাওয়া। অথচ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভির দাবি পিআর পদ্ধতিতে ভোট হলে ভোটাররা বিভ্রান্ত হবেন। এই সুপরিকল্পিত মাস্টার প্ল্যান কারও পক্ষেই ভালো হবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মঙ্গলবার ঢাকায় বলেন, জণগনের ম্যানডেট না নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি নিলে গণতন্ত্র নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে। দ্রুত নির্বাচন না হলে দেশে গৃহযু্দ্ধের আশঙ্কা থাকবে। এদিকে আবার সৈয়দ মুহম্মদ রেজাউল করিমের দাবি, দেশকে স্থায়ীভাবে স্বৈরতন্ত্র থেকে রক্ষা করে সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের একমাত্র লক্ষ্য। গত ৫৪ বছরে নির্বাচন হয়েছে যে পদ্ধতিতে তাতে বাংলাদেশ অনেক পিছনের দিকে চলে গিয়েছে। আগামীদিনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অত্যন্ত জরুরী।
এদিকে, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি নিয়ে মুখ খুলেছেন আনিসুল ইসলাম মামুদ। তাঁর প্রশ্ন, যে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে জাতীয় পার্টি অতীতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল, সেই জামায়াত কী করে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি করে? বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মাহমুদ আরও বলেন, জাতীয় পার্টি তার জন্মলগ্ন থেকে জনগণের অধিকার, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারক ও বাহক। বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় পার্টি বা দলের কোনও নেতা কখনও কোনও রাজনৈতিক অপরাধে জড়িয়ে পড়েনি। যে কারণে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি করা হচ্ছে। জাতীয় পার্টি শুধু একটি রাজনৈতিকদল নয়। দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বাধীনতার পর থেকে দল রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। শহর থেকে গ্রামে উন্নয়ন ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করেছে। আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার ইতিহাস দলে রয়েছে।
ইসলাম মাহমুদের কথায়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে ভোট সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরী। রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দূর্বল এবং জনগণের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেয়। মাহমুদের শেষ বার্তাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তদারকি সরকার কিন্তু আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। দলের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। সভাসমাবেশের খবর পেলেই তদারকি সরকারের লেঠেল বাহিনী সক্রিয় হয়ে উঠছে। তবে কি ইসলাম মাহমুদ তদারকি সরকারের এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করতে পারছে না? তাঁর বক্তব্যে তো তেমনই ইঙ্গিত মিলছে।












Discussion about this post