সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস ও পুরোনো সীমানা পুনর্বহালের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল ফরিদপুরের ভাঙা। সোমবার সহিংসতার রূপ নেয় গোটা এলাকা। জানা যায়, দুপুরের দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙা থানা ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। শুধু তাই নয়, উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ, সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তাদের ফোন নিয়ে নেয়। তাদের উপর শারীরিকভাবে হামলা চালানো হয়। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী এলাকা থেকে শুরু হওয়া লং মার্চ টু ভাঙা। দুপুর ১২টার মধ্যে গোলচত্বর এলাকায় এসে পৌঁছায়। তখন বিক্ষোভকারীদের হাতে লাঠি দেখা গিয়েছে। ভাঙা গোলচত্বর-সহ আশপাশের এলাকায় হাজারও মানুষ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করলে, তারা ব্যর্থ হন। এমনকি পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে উল্টে পুলিশকেই ধাওয়া করে বিক্ষোভকারীরা। তখনই পুলিস সদস্যরা ভাঙা মডেল মসজিদে আশ্রয় নেন। জানা যায়, সেখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর তারা থানায় চলে যান। এদিনের এই ঘটনায় ঢাকা খুলনা ও ভাঙা বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ যাত্রীরা।
এখানেই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, বিক্ষুব্ধ জনতা যে ওই এলাকাতে জড়ো হবেন, সেই খবর কি পুলিসের কাছে ছিল না? যদি সেই খবর থেকেই থাকে, তবে কেন পুলিশ অনুমতি দিল? যদি অনুমতি দিয়েই থাকে, তবে যথেষ্ট পরিমাণে কেন বাহিনী মোতায়েন করা হল না? প্রশ্ন উঠছে, যদি বিক্ষুব্ধ জনতার ধাওয়া খেয়ে পুলিশই নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতদিন মবকে পশ্রয় দিয়েছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। সহম্মুদ ইুনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার লাগাম টানার চেষ্টা করেনি। এমনকি তারা বলেছে, এটা সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। আর তাতেই মানুষ এখন বহিপ্রকাশ করছে। তবে তারা বুঝতে পারেনি, এই মব উল্টো দিকে ধাবিত হতে পারে। আর সেটা খারাপ হতে পারে সরকারের জন্য। প্রশাসন পর্যন্ত লাগাম টানতে পারেনি। ঠিক যেমনটা ঘটল ভাঙা এলাকাতে। সাংবাদিককে পর্যন্ত ছাড়া হল না। পুলিসের করুন ছবি সামনে এল। এই ছবি দেখে বাংলাদেশের মানুষ আর কাদের উপর আস্থা রাখবে, উঠছে প্রশ্ন। যেভাবে দিনের পর দিন দুষ্কৃতীরাজ বাড়ছে, তাতে এখনও নিশ্চুপ অ্যাকশন হলে, বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।












Discussion about this post