আমেরিকা গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে গলা জড়িয়ে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপর থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন একটি শব্দের জন্ম হয়েছিল হাগ্লোমেসি। এবার বিশ্ব দেখছে ফিশপ্লোমেসি। মানে মাছ উপহার। তাও আবার যেমন তেমন মাছ নয়। জলের রূপালি শস্য ইলিশ। দুর্গোপুজো উপলক্ষ্যে ভারতে বাংলাদেশের ইলিশ রফতানির অনুমোদন পেয়েছে ৩৭টি। মঙ্গলবার বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রক এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ২০ থেকে ৫০ টন ইলিশ ভারতে রফতানি করতে পারবে। মন্ত্রক নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, চলতি বছর ভারতে তারা এক হাজার ২০০ টন ইলিশ পাঠাবে। গত বছর সেটা ছিল তিন হাজার টন। সেটা কমিয়ে করা হয় দু হাজার ৪২০টন। গত বারের হিসেবে এই বছর অর্ধেক ইলিশ ভারতে রফতানির ছাড়পত্র দিয়েছে। প্রতি কেজি ন্যূনতম সাড়ে ১২ ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় ১০৫৭ টাকা) রফতানি করা যাবে।
যে সব প্রতিষ্ঠানকে ইলিশ রফতানির জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, সেই সব সংস্থাগুলি হল, খুলনার আরিফ সি ফুডস, বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ, লোকজ ফ্যাশান ও মাশফি অ্যান্ড ব্রাদার্স, চট্টগ্রামের জেএস এন্টারপ্রাইস ও আনরাজ ফিস প্রোডাক্টস, যশোরের লাকি এন্টারপ্রাইজ, এমইউ সি ফুডস, লাকি ট্রেডিং, রহমান ইমপেক্স ফিস এক্সপোর্ট, মোহাতাব অ্যান্ড সন্স, জনতা ফিস, বিশ্বাস ট্রেডার্স ও কেবি এন্টারপ্রাইস, ঢাকার ভিজিল্যান্ড এক্সপ্রেস, স্বর্ণালী এন্টারপ্রাইজ, ম্যাজেস্টিক এন্টারপ্রাইস ও বিডিএস কর্পোরেশন, বরিশালের মাহিমা এন্টারপ্রাইজ, নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, এ আর এন্টারপ্রাইজ ও তানিসা এন্টারপ্রাইজ, পাবনার নোমান এন্টারপ্রাইজ, রুপালি ট্রেডিং কর্পোরেশন. সেভেন স্টার ফিস প্রসেসিং কোং, ন্যাশনাল অ্যাগ্রো ফিসারিজ, আরফি ট্রেডিং কর্পোরেশন, জারিফ ট্রেডিং কর্পোরেশন, জারিন এন্টারপ্রাইজ, ফারিয়া ইন্টারন্যাশনাল ও সততা ফিস, ভোলার রাফিদ এন্টারপ্রাইজ, সাতক্ষীরার মা এন্টারপ্রাইজ ও সুমন ট্রেডার্স।
ভারতের ফিশ ইমপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে সৈয়দ আনসুর মাকসুদ বলেন, ‘উৎসবের মরসুমে ইলিশ পাঠানোর জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করেছিলাম। বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রফতানিতে ছাড়পত্র দিয়েছে। আমরা তাদের ধন্যবাদ দিচ্ছি।’
হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ প্রথমে সিদ্ধান্ত নেয় ভারতে তারা আর ইলিশ রফতানি করবে না। তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস প্রশাসন প্রথমে জানিয়েছিল অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। পরে অবশ্য তারা তাদের অবস্থান বদল করে। জানিয়ে দেয়, ইলিশের মতো ক্ষুদ্র ইস্যু ঢাকার সঙ্গে দিল্লির কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কে কোনও প্রভাব ফেলবে না।
হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথমে না বলে পরে হ্যাঁ বলা, এবং হাসিনা- উত্তর পরিস্থিতিতে ভারতে ইলিশ পাঠানোর পিছনে বেশ একটা আঁশটে গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। হাসিনা এখনও ভারতে। দিল্লি তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ওদিকে আবার বছর ঘুরলে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। এই অবস্থায় ইউনূস সরকার ভারতে ইলিশ রফতানির ছাড়পত্র দিয়েছে। মূল উদ্দেশ্য কী?
অনেকে বলছেন, ইলিশ পাঠিয়ে গদি বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করছেন তদারকি সরকারের প্রধান। যদি সেটা নাও হয়, তাহলে ভারত যদি আগামীদিনে তাঁর জন্য একটা সেফ প্যাসেজের ব্যবস্থা করে রাখে, তাই তার জন্য আগে থেকেই ভেট পাঠিয়ে দিলেন। সরকারি বিবৃতিতে কিন্তু উল্লেখ নেই যে কেন ইলিশ রফতানির হার ইউনূস সরকার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিল। তাই, শিরোনামেই লেখা হয়েছে একটা আঁশটে গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। হয়তো বাকিরাও সেই গন্ধ পাচ্ছেন।












Discussion about this post