অস্থির বাংলাদেশে ফের সেনামহড়া। এবার চট্টগ্রাম- কক্সবাজারে। ভারতের একটি দৈনিকের খবর অনুযায়ী, মার্কিন বায়ুসেনা ও স্থলসেনা, দুই বাহিনীর পদস্থকর্তা মিলিয়ে মোট ১২০জন বাংলাদেশে এসেছেন। উঠেছেন চট্টগ্রামের একটি পাঁচতারা হোটেলে। দুই বাহিনীর সেনাদের সঙ্গে রয়েছে মার্কিন স্পেশ্যাল ফোর্সের উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন কর্তা। ভারতীয় ওই দৈনিকের খবর অনুযায়ী, মার্কিন-বাংলাদেশের একটি বিমানে করে এরা গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছায়। এই কর্মসূচি আগে থেকেই নেওয়া ছিল। তার কারণ, চট্টগ্রামের যে হোটেলে তারা উঠেছে সেই হোটেলের ৮৫টি ঘর আগাম বুক করা হয়ে যায়। মার্কিন সেনার পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মিশর থেকে একটি সে দেশের একটি পণ্যবাহী বিমানও অবতরণ করে। চট্টগ্রামের যে হোটেলে মার্কিন সেনারা উঠেছে, সেই হোটেলের রেজিস্টারে কেউ কারও নাম নথিভুক্ত করেননি। অথচ হোটেল বা গেস্ট হাউজের নিয়ম হল, যেই সেখানে উঠুক না কেন, রেজিস্টারে নাম নথিভুক্ত করাই দস্তুর। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, মার্কিন সেনা আগামী ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ছেড়ে চলে যাবে।
মার্কিন সেনার বাংলাদেশে এই হাজির কারণ এবং সে দেশের সেনার সঙ্গে তাদের যৌথ মহড়ার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষিতে মার্কিন সেনার উপস্থিতি কৌতুহল তৈরি করেছে। গত ৩১ অগাস্ট ঢাকার একটি হোটেল থেকে এক মার্কিন সেনার দেহ উদ্ধার হয়। এই ধরনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই ময়নাতদন্ত করা হয়ে থাকে। কিন্তু ওই মার্কিন সেনার দেহ বিনা ময়নাতদন্তেই আমেরিকা তাদের হেফাজতে নিয়েছে। তাহলে কী সেনা মহড়ার আড়ালে মার্কিন সেনা রেইকি করে উদ্ধার করতে চাইছে ওই মৃত্যুর আসল কারণ?
বাংলাদেশে মার্কিন সেনা যে এসেছে, সে ব্যাপারে ঢাকার তরফ থেকে কিন্তু কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এমনকী বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাস থেকেও কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি।
গত মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, রাস্তার ওপর দিয়ে বাস চলে যাচ্ছে। সেই বাসের ভিতরে রয়েছেন মার্কিন সেনা। বাংলাদেশের একটি পোর্টালের প্রতিবেদন অনুসারে, কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে দমকল কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই মার্কিন সেনা ঢাকা এসেছে। যদিও এই বিবৃতিতে সন্তুষ্ট হতে পারছে না তথ্যভিজ্ঞ মহল। কারণ তারা বলছে, দমকলকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এতদূর থেকে মার্কিন সেনাকে আসতে হবে কেন। আর যেখানে তারা প্রশিক্ষণ দেবে, ঠিক তার কাছেই সেন্ট মার্টিন আইল্যান্ড। হাসিনা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পরে পরে তিনি একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, আমেরিকা এই আইল্যান্ডে একটি ঘাঁটি তৈরি করতে চেয়েছিল। তিনি আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে আমেরিকা সেটা আর করে উঠতে পারেনি। তাহলে কী ইউনূস সরকার সেন্ট মার্টিনে মার্কিন সেনার ঘাঁটি তৈরির ব্যাপারে ঘুরিয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন? এটা অনুমান করে যদি প্ল্যান এ কাজ না করে, তাহলে প্ল্যান বি কাজে লাগাবেন। সেটা কীরকম?
ভারত যদি তাঁর জন্য সেফ প্যাসেজের ব্যবস্থা করতে না পারে বা ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে আমেরিকার সাহায্য চাইবেন। তাই আগে থেকেই তার একটা ক্ষেত্রে প্রস্তুত করে রাখতে চাইছেন। কারণ আগামীদিনে বাংলাদেশে কী ঘটতে চলেছে সেটা ইউনূস বুঝতেও পারছেন না। তিনি ভেবেছিলেন এক, আর হচ্ছে অন্যকিছু। তাই, পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা এখন থেকেই তৈরি করে রাখতে চাইছেন তিনি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post