দ্রুত বদলাচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একদিকে আওয়ামী লীগের দ্রুত উত্থান, অন্যদিকে হাসিনা বিরোধী শিবিরে দ্রুত ভাঙন ধরছে। জানা যাচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই রাজপথে আন্দোলনে নামছে জামায়াতে ইসলামি সহ বাংলাদেশের নয়টি পার্টি। যার অধিকাংশই ইসলামপন্থী সংগঠন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ‘একঘরে’ অবস্থা বিএনপি’র। এই আবহে যদি খালেদা জিয়ার দল পাল্টা কোনও কর্মসূচি ঘোষণা করে, তাহলে পরিস্থিতি আমূল পাল্টে যাবে বাংলাদেশের। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার সুযোগে মুহাম্মদ ইউনুস ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে পারেন।
সোমবারই ঢাকায় ঐক্যমত কমিশনের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে যে এখনও রাজনৈতিক ঐক্যমত অধরা সেটা কার্যত নিশ্চিত। এরপরই জানা যায় আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়তে ইসলামী এবং তাঁদের সহযোগী দলগুলি। বাংলাদেশের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যখন ফ্যাসিবাদ বিরোধী বোঝাপড়া গড়ে ‘নতুন বাংলাদেশ’ নির্মানের তৎপরতা বাড়াচ্ছে, তখনই যেন হোঁচট খেল ইউনূস সরকার। কার্যত আলোচনার টেবিল ছেড়েই জামাত-সহ নয়টি দলের রাজপথে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিল। রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, এটা জামাতের আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন এড়ানোর কৌশল। কারণ তাঁরাই প্রথম থেকে দ্রুত নির্বাচনের বিপক্ষে রয়েছে। এক বছর পার করা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতিতে নতুন পর্ব শুরু হতে চলেছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। হাসিনার সরকারের পতনের পর আওয়ামী লিগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের জোট শরিকেরা বাদে বাকি রাজনৈতিক দলগুলি মোটামুটি ঐক্যবদ্ধই ছিল প্রথম দিকে। কিন্তু ক্রমশ সেই ঐক্যে ফাটল ধরতে থাকে। এখন সেই ফাটল অনেকটাই চওড়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, জামাত ও বিএনপির মধ্যেই মূল ফাটল। এখানে এনসিপিকে কেউ ধাতর্বের মধ্যেই আনছে না।
এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এবং এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং অন্যান্য ইসলামি দলগুলির দাবি, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ ভোট করতে হবে। অপরদিকে বিএনপির দাবি ছিল ভোট চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই করাতে হবে। অবশেষে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সমঝোতা হয় বাংলাদেশের ভোট হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানের আগেই। জামাত ও তাঁর সহযোগী সংগঠনগুলির দাবি, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন করাতে হবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-সহ ১৪ দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। অপরদিকে বিএনপি সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের বিরোধী, এবং আওয়ামী লীগের মতো পুরোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা নিয়েও তাঁরা নরম। তাঁদের বক্তব্য ছিল, হাসিনা-সহ অন্যান্য অভিযুক্ত নেতাদের বিচার হোক, রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার মানে হয় না। বিএনপির আরও বক্তব্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নব গঠিত জাতীয় সংসদের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, আওয়ামী লিগ বিরোধী দলগুলির বোঝাপড়ায় এমন মতভেদ নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি এই মুহূর্তে যথেষ্ট সরগরম। যা আখেড়ে লাভ করতে পারে আওয়ামী লীগকেই।












Discussion about this post