বাংলাদেশের মন্ত্রীদের আবাসিক এলাকা মিন্টো রোড। এখানেই থাকতেন হাসিনা আমলের সব মন্ত্রীরা। এখন থাকেন কয়েকজন উপদেষ্টা। বলা চলে ঢাকার ভিভিআইপি এলাকা। সেখানেই ঘোরাঘুরি করছিল একটি বিলাশবহুল গাড়ি। সন্দেহ হওয়ায় গাড়িটি আটকান পুলিশকর্মীরা। আর তাতেই বেরিয়ে এল থলের বিড়াল। জানা গেল, ওই গাড়িতে ছিলেন এক মার্কিন গুপ্তচর। যদিও তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক। তিনিই কিনা বাংলাদেশে এসে চরবৃত্তি করছিলেন ইউনূস সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকের নাম এনায়েত করিম চৌধুরী। বছর পঞ্চান্নর এই ব্যক্তিকে প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, পরে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেই জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। কিন্তু এর পর যা জানা গেল, সেটা আরও আশ্চর্ষের। ধৃত বিশেষ একটি দেশের গুপ্তচর সংস্থার এজেন্ট বলে নিজেকে দাবি করেছেন। তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সরিয়ে নতুন জাতীয় সরকার গঠনের কাজ নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। ওই গুপ্তচর সংস্থাটি যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, সেটাও জানা গিয়েছে। ধৃত এনায়েত অভিযোগ করেছেন, মার্কিন সরকার নাকি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের উপর অসন্তুষ্ট।
বিষয়টি বেশ গুরুতর। দিন ১৫ আগেই ঢাকার গুলশনের ওয়েস্টিন হোটেলে এক জন মার্কিন নাগরিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। মৃত ব্যক্তির নাম ছিল টেরেন্স আরভেল জ্যাকসন। ওই হোটেলের ৮০৮ নম্বর ঘর থেকে টেরেন্সের মরদেহ উদ্ধার হয়। ঢাকা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, কয়েক মাস ধরে ব্যবসার কাজে টেরেন্স বাংলাদেশে ছিলেন। বিশেষ নির্দেশে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁর মরদেহ মার্কিন দূতাবাসের কাছে হস্তান্তর করতে হয়। বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছিল, নিহত ওই ব্যক্তি মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার এজেন্ট ছিলেন। ওই ঘটনা নিয়ে জল্পনা কল্পনা থামার আগেই আরেক মার্কিন গুপ্তচর ধরা পড়ল ঢাকায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মার্কিন গুপ্তচররা কেন বাংলাদেশে এত সক্রিয়? পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী নিউইয়র্ক থেকে গত ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এসেছিলেন। যদিও ঢাকার রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হলেও মামলা করা হয়নি। ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসাবে তাঁকে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে সোমবার রিমান্ড শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে। এই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এই সব ব্যাপার স্যাপার দেখে সন্দেহ আরও ঘনিভূত হচ্ছে। তাহলে কি সত্যিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর মুহাম্মদ ইউনূসকে সুনজরে দেখছে না, নাকি বিশ্বাস করতে পারছে না।
ধৃতকে দ্বিতীয়বার আদালতে হাজির করিয়ে, আরও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ, আরও তথ্য সংগ্রহ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সনাক্ত করার জন্য এনায়েত করিমের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে আছেন, যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছে এবং জননিরাপত্তা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। ধত এনায়েত সরকারি ও বেসরকারি খাতের নেতাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতে চেয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মার্কিন গোয়েন্দারা আর ইউনূসের উপর ভরসা করতে পারছেন না। তাই তাঁকে সরিয়ে আরেকজনকে অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাথায় বসাতে। কারণ, যত দিন যাচ্ছে, রাখাইন করিডোর বা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আশায় জল ঢালছেন ইউনূস ও খলিলুর রহমান। ফলে এখন পাল্টা চাপ খেতে হচ্ছে তাঁদের।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post