একদিকে নুরুল হক নূর হাসপাতাল থেকে ফিরেছেন। এবং চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও অভিযোগ, তার দল তার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছে। ইতিমধ্যেই খবর জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট জি এম কাদের এবং মহাসচিবের বিরুদ্ধে থানায় মামলার আবেদন করা হয়েছে। এরইমধ্যে রাশেদ খান ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা এবং নুরুল হক নূরের উপর আক্রমণের শাস্তি স্বরূপ নিশ্চিত করা না হলে যমুনা ঘেরাও করা হবে। যখন জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার আলোচনা চলছে, তখন বিএনপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল। পিআর পদ্ধতি নিয়ে কথা বললেন বিএনপিও নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে জাতীয় পার্টি বা ১৪ দলকে যদি নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয়, তবে বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে এগোচ্ছে? তবে কি আওয়ামী লীগের মতোই পরিণতি হতে চলেছে রাজনৈতিক দলগুলির? এই প্রশ্নটাই উঠছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে তাদের জুলাই সনদ বিষয়ে যে অবস্থান, সেটা লিখিত আকারে স্পষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছেন। জানা গিয়েছে, ৪০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তারা সরকারকে সেটা জানিয়ে দিয়েছে বলে খবর। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানালেন, নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ চাওয়া হবে, এটা ভয়ংকর চর্চা। অর্থাৎ তিনি বলতে চাইছেন, আপনি যদি নির্বাহী আদেশে জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করেন, যদি ১৪ দল নিষিদ্ধ করেন, সেটা ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে এগোবে। এমনকি তিনি বলেছেন, যদি এতগুলো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেন, তবে আগামী নির্বাচন কাদেরকে নিয়ে হবে? এটা কোনও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হতে পারে না। এমনটাই বলার চেস্টা করেছেন তিনি। এমনকি তিনি বলেন, বিএনপি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধের পক্ষে নয়।
এখানেই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, যে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হল, তখন কেন নিশ্চুপ ছিল বিএনপি? কেন তারা প্রতিবাদ করল না? তখনও বিএনপি বলেছিল, তারা কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধের পক্ষে নয়। কিন্তু পরবর্তীকালে আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে নিশ্চুপ থাকে বিএনপি। এমনকি যখন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করা হল, তখনও চুপ ছিল বিএনপি। সেগুলোতে বিরোধিতা করেনি খালেদা জিয়ার দল। বরং তারা একরকম মেনে নিয়েছে। যদিও এই বিষয় বিএনপি বলে, আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ আলাদা। আওয়ামী লীগ নাকি ফ্যাসিস্ট। তারা নানাভাবে জুলুমবাজি করেছে মানুষের উপর। কিন্তু অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হলে, সেটা একটা ভয়ংকর পরিণতির দিকে এগোবে। এমনটাই বলার চেষ্টা করেছেন বিএনপি নেতা। এমনকি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, দেশের পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কোনও ভাবেই যায় না। এমনকি তিনি নেপালের পরিণতির কথা উদাহরণস্বরূপ টেনে বলেন, পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পরিণতি ঠিক কি, সেটা নেপালের দিকে তাকান। এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে, সরকার দুর্বল হয়ে যায়।
এমনকি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগের সময় বিএনপি বেশি সুর কেন চড়ায়নি, তার অন্যতম কারণ হল, যদি আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তবে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পথটা মসৃণ হবে না। সেটা তারা নিজেরাও জানে। সেই কারণেই তারা চুপ ছিল। তবে ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনে যে ফলাফল সামনে এল, এরপর বিএনপির কি অবস্থান হবে, সেটাই এখন দেখার।












Discussion about this post