এনসিপি কি ভাঙতে শুরু করেছে? কারণ বলা হচ্ছে, এনসিপির মধ্যে দুটি ভাগ হয়ে গিয়েছে। একটা ভাগ চাইছে, ইসলামী দলগুলির সঙ্গে সখ্যতা, আর একটি ভাগ, যারা বামপন্থী মননের, তারা কোনওভাবেই ইসলামী দলগুলির সঙ্গে সখ্যতা, ঐক্য মানছে না। অর্থাৎ এনসিপির মধ্যেও এক ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। আর সেটা জামাতকে নিয়ে। অর্থাৎ জামাত-এনসিপির সখ্যতা শেষ। যা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতি তোলপাড়।
হঠাৎ জামাতের সঙ্গে এনসিপির দূরত্ব তৈরি হয়েছে যেসব কারণে, সেগুলি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলি। ৮ টি দল যুগপথ আন্দোলনে যে যাবে, সেখানে হঠাৎ করে এনসিপি বলে, জামাতের সঙ্গে এনসিপি যুগপথ আন্দোলনে যাচ্ছে না। তারা কোনও দলের সঙ্গে জোট করছে না এই মুহূর্তে। এনসিপি নেতারা এই তথ্যগুলো গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।
এনসিপির সঙ্গে এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ সহ আরও একটি দল এই ইসলামী দলগুলির সঙ্গে যুগপথ আন্দোলনে যাচ্ছে না। সেই কারণে জামাত, ইসলামী আন্দোলন, খিলাফত সহ ১৮ ই সেপ্টেম্বর থেকে এক ধরণের আন্দোলন শুরু করবে, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সহ দাবিতে। এনসিপির সঙ্গে জামাতের দ্বিমতের জায়গাটা কোথায়? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জামাত পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চাইছে। অর্থাৎ সংসদ নির্বাচনও পিআর পদ্ধতিতে চাইছে। যেটা এমসিপি এই মুহূর্তে চাইছে না। তারা এখন চাইছে, সাধারণ নিয়মেই নির্বাচন করতে।
শুধুমাত্র সংসদের উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে ভোট হবে। জামাত যেহেতু এই জায়গাতে একমত নয়, সেটা একটা বড় কারণ। এনসিপির মধ্যে একটি মত বিরোধ তৈরি হয়েছে। দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। একপক্ষ ইসলামপন্থী, আর এক পক্ষ বাম ঘরানার। আর এক পক্ষ, সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছে। এই দুই পক্ষের মধ্যে যেন চূড়ান্ত চির না ধরে, এই কারণে এনসিপি আপাতত কৌশল হিসাবে জামাত বা ইসলামিক দলগুলির সঙ্গে কোনও ধরনের কোনও পক্ষে যাচ্ছে না। এমনকি এনসিপি নেতারা এটা বলছেন, যে এই মুহূর্তে জামাতের সঙ্গে জোট করার কথা তারা ভাবছে না। তারা বলছে, তারা যদি মনে করত, যে তাদের সঙ্গে জোট করলে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে, শাসন ভারের দায়িত্ব কাঁধে আসবে, তাহলে জোট করা যেত। কিন্তু যখন বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট নয়, তাহলে রাজনীতি অনেক বেশি কঠিন হয়ে যাবে। সেই কঠিন হয়ে যাওয়ার রাজনীতি প্রেক্ষাপট তৈরি করার জন্য, সিদ্ধান্ত নেবে না।
এমনকি এনসিপি বলছে, পরবর্তীকালে তারা কারও সঙ্গে জোট করবে কিনা, সেটা সময় বলবে। মূলত এই কারণে জামাতের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক থাকছে না। আরও একটি কারণ, ডাকসু এবং জাকসুতে ভরাডুবি। সমন্বয়কের যে ভরাডুবি হয়েছে, সেই ভরাডুবির পরিপ্রেক্ষিতে তারা ভাবছে, এতদিনের রাজনীতি একেবারেই ভুল ছিল।












Discussion about this post