গত বছর ৫ আগস্ট তথাকথিত এক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছিল। এর পর কেটে গিয়েছে এক বছর, মুহাম্মদ ইউনূস এখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। তাঁর আগে বছর ১৬ ধরে বাংলাদেশকে শাসন করেছিলেন শেখ হাসিনাই। পর পর তিন বার ভোটে জিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। যদিও বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ও বিএনপির দাবি, হাসিনা ভোটে কারচুপি করে বা গায়ের জোরে ভোট করিয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন। মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের দাবি ছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশের প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। আর তা করেছে শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবার এবং অন্যান্য আওয়ামী লীগের নেতারা। কিন্তু লীগের পাল্টা দাবি, ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার, এই দাবির পিছনে সুস্পষ্ট কোনও তথ্য ও প্রমান দেখাতে পারছে না। বরং আওয়ামী লীগ এখন পাল্টা দাবি করছে, বাংলাদেশের বিগত ২০ বছরের যা অর্জন ছিল, যা এক বছরেই মুছে দিল ইউনূসের ‘অবৈধ’ সরকার! এই দাবির পিছনে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্ট করা হয়েছে। তাতে বিভিন্ন যুক্তি-প্রমান দেওয়ার চেষ্টাও করেছে হাসিনার দল।
আওয়ামী লীগের দাবি, ইউনুস সরকারের শাসন বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিকে এমন এক গভীর অচলাবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন হবে দীর্ঘ সময় ও সুপরিকল্পিত সংস্কার। তাঁদের আরও দাবি, ইউনুস সরকারের আমলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যেমন রেকর্ড পরিমাণে কমেছে তেমনই বিদেশি ব্যাঙ্কগুলিতে অর্থ পাচারের অভিযোগ আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। দেশের প্রায় ৬০ ভাগ মানুষের অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি, বেকারত্ব, বিনিয়োগ হ্রাস— সব মিলিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।২০২৫ সালে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু অস্থিতিশীল পরিবেশ, অবৈধ শাসন ও জঙ্গীবাদের উত্থানের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পিছু হটেছে। এর ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলাদেশের শিল্পখাত। আওয়ামী লীগের দাবি, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার। বন্ধ কয়েক হাজার কলকারখানা। এর ফলে অভ্যন্তরীণ শিল্পখাতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। অনুমান করা হচ্ছে এর জেরে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনুস সরকারের আমলে বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলো নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এই এক বছরে জেল ভেঙে পালানো ৭০০-র বেশি জঙ্গিকে ধরা যায়নি, বা ধরার চেষ্টা করেনি সরকার। এমনকি কয়েকজন শীর্ষ জঙ্গি নেতাকে দায়মুক্তি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নতির অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে। কারণ, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে লগ্নি করার আগে দশবার ভাববে। ওই ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, মুহাম্মদ ইউনুসের সরকার প্রমাণ করেছে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে জনগণের কাছে কোনও জবাবদিহিতা ছাড়া শাসন করার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। অর্থনীতির পতন, বিনিয়োগের ভাটা, জঙ্গিবাদের উত্থান এবং দুর্নীতির পাহাড় মিলিয়ে বাংলাদেশ আজ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে চলে গিয়েছে। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেত্রী ভারতে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মুহাম্মদ ইউনূস এবং এই অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে জোরদার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে ইউনূস সরকার। এমনকি গণমাধ্যমকেও আওয়ামী লীগের কোনও বার্তা প্রচার না করার হুঁশিয়ারি দেওয়া আছে। কিন্তু তা করেও আটকানো যাচ্ছে না আওয়ামী লীগের প্রচার। বাংলাদেশের জনমানসে ক্রমশ ইউনূস সরকারের অপশাসন এবং দুর্নীতি তুলে ধরছেন শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বিশিষ্টজন ও অর্থনীতিবিদরা এই বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের মিথ্যাচার ধরা পড়ছে একে একে।












Discussion about this post