বিগত এক বছরে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পিছনে কারণ কি, তা আর বুঝতে বাকি নেই কারও। আমরা সকলেই প্রায় জানি, জো বাইডেনের আমলে মার্কিন ডিপ এক গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে পালাবদল ঘটিয়েছিল। এই গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পালাবদল হওয়ার পর থেকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কূটনৈতিকদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায় তাৎপর্যপূর্ণভাবে। তবে সকলকে অবাক করে বাংলাদেশে ঘনঘন যাতায়াত করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্তারাও। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া করেছে মার্কিন সেনা, আবার তাঁরা কখনও বাংলাদেশের বিপর্যয় মোকাবিলা জওয়ানদের প্রশিক্ষণও দিয়েছে। এটা সকলেরই নজর কেড়েছে।
এই আবহেই সামনে আসে বাংলাদেশের কক্সবাজারে রাখাইন মানবিক করিডোরের বিষয়টি। বলা হল, এই করিডোরের মাধ্যমে নাকি মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মানবিক সহায়তা দেবে রাষ্ট্রসংঘ। কিন্তু প্রবল আপত্তি তুলল বাংলাদেশেরই কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এই করিডোরের প্রবল বিরোধিতা করল বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। এমনকি মিয়ানমারের সামরিক সরকারও হুমকি দিয়ে বসলো। চাপ বুঝে এই করিডোরের দায় এড়ালো রাষ্ট্রসংঘ। ফলে ভেস্তে যায় মুহাম্মদ ইউনূস এবং খলিলুর রহমানের গোপন পরিকল্পনা। কিন্তু এই করিডোরের আছিলায় মর্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সেন্ট মার্টিন বা কক্সবাজারে সামরিক বেস স্টেশন করতে দেওয়ার চেষ্টা ছাড়েননি মুহাম্মদ ইউনূস।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, এই মার্কিন তৎপরতা যতটা প্রকাশ্যে ঘটছে, তার থেকে অনেক বেশি গোপনে চলছে। উদ্দেশ্য একটাই যত দ্রুত সম্ভব সেন্ট মার্টিনে ঘাঁটি তৈরি করে নেওয়া যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সের যৌথভাবে সাত দিনব্যাপী মহড়া চালাচ্ছে। বাংলাদেশের আইএসপিআর বলছে, চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর ঘাঁটি জহুরুল হকে ‘অপারেশন প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল ২৫-৩’ নামের এই যৌথ মহড়ার উদ্বোধন করা হয়েছে গত রবিবার। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান, একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান এ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এছাড়া জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৫০ জন সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৯২ জন সদস্য ছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন এ মহড়ায়। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বা বিমানবাহিনীর সঙ্গে এত ঘনঘন মহড়া কেন দিচ্ছে মার্কিন সেনা? যেখনে দুই দেশের সক্ষমতা এবং আধুনিকতায় বিস্তর ফারাক রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।
এই সব মহড়ার আড়ালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের বেসক্যাম্প তৈরি করে নিচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের প্রত্যক্ষ মদতে। অনেকেই বলছেন, প্রধান উপদেষ্টা নিজের আখের গোছাতে গিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বিক্রি করে দিচ্ছেন বিদেশী শক্তির কাছে। এই প্রশ্নও উঠছে, রাখাইন করিডোর নিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান কার্যত বিদ্রোহ করেছিলেন, তিনি কেন এখন চুপ? ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এথানে কারসাজি রয়েছে মার্কিন কূটনৈতিকদের। বিশেষ করে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের ভূমিকা প্রশ্নাতীত। এখন দেখার কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post