ভারতীয় বিমান বাহিনী উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি বৃহৎ পরিসরে বিমান মহড়া পরিচালনা করতে চলেছে, যা এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মহড়া। এর জন্য ভারত সরকার একটি নোটিশ টু এয়ারমেন বা নোটাম জারি করেছে। যা লাগু থাকবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত। অর্থাৎ ওই ২২ দিন উত্তর-পূর্ব ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারে আন্তর্জাতিক বিমানগুলির জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়টিকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা দিচ্ছেন। প্রথমটা হল, উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য মূলত চিন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী। এবং দ্বিতীয়টি হল, কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় সেনাবাহিনীর চার প্রধান এবং ইস্টার্ণ কমান্ডের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে পরস্পর বৈঠকের পর নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। ফলে বিষয়টির গুরূত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, কেবলমাত্র বাংলাদেশকে বিশেষ বার্তা দিতেই এই বিমান মহড়া করবে ভারতীয় বিমানবাহিনী।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, উচ্চ-তীব্রতার এই বিমান মহড়া বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোরের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে। যা নিয়ে ক্রমাগত হুমকি, হুঁশিয়ারি এসেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহল থেকে। প্রশ্ন উঠছে, আচমকা কেন বিমান মহড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? বিশেষজ্ঞ মহলের একটি অংশ মনে করছেন, বাংলাদেশ নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ামে সেনা সম্মেলনের উদ্বোধন করার আগেই একাধিক জরুরি বৈঠক করেছিলেন কলকাতায় রাত্রিবাস করাকালীন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সেনার সর্বাধিনায়ক এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা। বৈঠকে আরও গুরুত্বপূর্ণ সেনাকর্তা এবং অন্যান্য বিভাগীয় প্রধানদের যুক্ত করা হয়েছিল ভার্চুয়াল মাধ্যমে। কয়েকটি সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, ভারতের নিশানায় এবার মুহাম্মদ ইউনূস। সেই সঙ্গে ভারত টার্গেট করেছে ইউনূসের আশেপাশে থাকা ৮ জন উপদেষ্টাকেও। জানা যাচ্ছে, তাঁদের বাংলাদেশের মসনদ থেকে হঠাতে এবার তৎপর হতে পারে নয়া দিল্লি। মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক একেবারেই তলানিতে এসে ঠেকেছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ পাকিস্তান, তুর্কির মতো দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে, যা ভারতের জন্য মাথাব্যাথার কারণ।
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই নয়া দিল্লি মুহাম্মদ ইউনূসকে কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন। এই শর্তগুলি মেনে চললে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগের মতোই হয়ে যাবে। আগের মতোই আমদানি-রফতানি চালু করে দেওয়া হবে। এই শর্তগুলি না মানা হলেই ভারত বাংলাদেশের উপর আরও চাপ প্রয়োগ শুরু করবে। বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞ মহলের বক্তব্য, ভারত মূলত আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়েই চাপ সৃষ্টি করছে ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপর। যা ইউনূসের পক্ষে সহজে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইউনূস সাহেব এখন শাঁখের কড়াতে পড়েছেন। যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডানায় ভর করে তিনি হম্বিতম্বি করছিলেন, সেই যুক্তরাষ্ট্রও এখন তাঁর মাথার উপর থেকে হাত তুলে নিচ্ছে। অপরদিকে, ভারত, চিন ও রাশিয়া এখন এক সারিতে চলে এসেছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় এত সহজে ছড়ি ঘোরাতে পারবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই ভারতের ব্যাপারে সুর নরম করতে বাধ্য হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ভারতের গোয়েন্দাদের সক্রিয়তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের জনসমর্থন ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও কাজ করছে গুপ্তচররা। এ ক্ষেত্রে বড় ধরণের বিপদের মুখে মুহাম্মদ ইউনূস ও ৮ জন উপদেষ্টা। তাঁরা আদৌ সেফ এগজিট পাবেন, নাকি তাঁদের শাস্তির মুখে পড়তে হবে, এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post