বছরেই পাল্টে গিয়েছে বাংলাদেশ। প্রাণচঞ্চল, সদা ব্যস্ত ঢাকা আজ কেমন যেন আতঙ্কের রাত কাটায়। শুধু রাত নয়, এই মুহূর্তে ঢাকায় দিনের বেলাও সতর্ক চলাফেরা করতে হয়। এটা মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশ, ছাত্রদের বাংলাদেশ। সম্প্রতি নেপালেও একটি অভ্যুত্থান হল, যার জেরে নেপালের প্রধানমন্ত্রী-সহ মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করতে বাধ্য হল। নেপালেও বাংলাদেশের মতো একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে, যার প্রধান হয়েছেন সুশীলা কার্কি। তিনি যে মুহাম্মদ ইউনূস নন, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন শপথ নিয়েই। কারণ, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়েই জানিয়ে দিয়েছেন, কবে নেপালে সাধারণ নির্বাচন হবে। যা মুহাম্মদ ইউনূস করেননি। বাংলাদেশের মতো নেপালেও জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম অভ্যুত্থানের মূল শক্তি ছিল। বাংলাদেশের মতো নেপালও অভ্যুত্থানের দুই-তিন হিংসায় জ্বলেছে। কিন্তু নেপালি জেন-জি প্রজন্ম অভ্যুত্থান ঘটিয়েই হিংসা থামিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, তাঁরা হিংসার ক্ষতচিহ্ন মুছতে এবং আবারও ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পরিস্কার করতে হাজারে হাজারে পথে নেমে পড়েছে। যা বাংলাদেশে হয়নি। বরং মুহাম্মদ ইউনূসের আদরে, প্রশ্রয়ে তাঁরা দিনে দিনে ক্ষমতাশালী হয়েছে। যা খুশি তাই করার ছাড়পত্র পেয়েছে। এরাই বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের প্রজন্ম। জেন-জ়ি। অভ্যুত্থানের এক বছর পার করেও তাঁদের কি কাজ, সেই প্রশ্ন না করাই শ্রেয়।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ নানা সংগঠনের বিক্ষোভ সমাবেশ চলে। দিন রাত তাঁদের যুগপৎ উচ্চকণ্ঠের ভাষণ ও স্লোগানে কান ঝালা-পালা হওয়ার জোগার হয়। পাশাপাশি একাধিক সংগঠনের সমাবেশে, দাবিও আলাদা আলাদা। ফলে সংঘর্ষ এড়াতে ব্যারিকেড দিয়েছে পুলিশ। এই আন্দোলনকারীদের সামলাতেও হিমশিম খাওয়ার জোগাড়। কারণ পুলিশ কম পড়িয়াছে বাংলাদেশে। পুলিশ আধিকারিকরা আড়ালে বলছেন, আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর প্রায় তিন হাজার পুলিশকর্মীকে খুন করা হয়েছে। কতজন যে প্রাণভয়ে পালিয়েছেন, তার হিসেব নেই। কারা মারলো? উত্তরটা অবলীলায় বলা যায় আন্দোলনের প্রজন্ম, জেন-জি। ঢাকার রাস্তায় মাঝেমধ্যেই তীব্র পোড়া গন্ধ। সঙ্গে চোখ জ্বালা করা ধোঁয়া দেখা দেয়। কোথাও পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, তো কোথাও দোকানপাট। এর পিছনে যারা রয়েছে, তাঁরাও আন্দোলনের প্রজন্ম, জেন-জি। রাজধানী ঢাকা-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরের অলিগলিতে এই আন্দোলনের প্রজন্ম দল বেঁধে সারা দিন আড্ডা দিয়ে বেড়ায়। বাংলাদেশি সাংবাদিকরা একান্তে বলছেন, এরাই পুলিশ খুন করেছে, আগুন দিয়েছে, ভাঙচুর-লুটপাট সবই করেছে। এরা অভ্যুত্থানের প্রজন্ম। জেন-জ়ি।
ঢাকার রাস্তায় একটু কান পাতলেই শোনা যাবে, বাংলাদেশের জেন-জি প্রজন্মের সোনার চাঁদদের কীর্তিকলাপের অসংখ্য গল্পগাথা। তস্যগলির মণিহারি দোকান থেকে শুরু করে রাজপথের ঝাঁ চকচকে শোরুম, এই তরুণ দলেরা এখন চাঁদা আদায় করেই কারবার চালায়। কখনও মব সৃষ্টি করে, আবার কথনও মোলায়েমভাবে হুমকি দিয়ে। ব্যবসাদাররা যদি বলেন, ‘ব্যবসা নেই এত টাকা দিতে পারব না’, তাহলেও তাঁরা হেসে বলেন সমস্য়া নাই আলোচনায় বইসা ঠিক করে নেওয়া যাবে। অর্থাৎ চাঁদাবাজির নতুন পদ্ধতি আবিস্কার করেছে বাংলাদেশের এই অভ্যুত্থানের প্রজন্ম বা জেন-জ়ি। মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে রক্ষাকবচ আদায় করে এরাই এখন কেউ স্বঘোষিত বীরপ্রতীক, কেউ বা বীরবিক্রম। হিমালয়ের কোলে ছোট্ট পাহাড়ি দেশ নেপালের জেন-জি প্রজন্ম যখন অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন দেশ গড়তে নেমে পড়েছে। তখন বাংলাদেশের জেন-জি বা অভ্যুত্থানের প্রজন্ম দেশকে পিছনের দিকে ঠেলতে উদ্যোগী। পার্থক্য এখানেই।












Discussion about this post