সেনাপ্রধান ওয়াকার কিভাবে নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন? প্রশ্ন তুললেন বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। সম্প্রতি বাংলাদেশের এক টেলিভিশন চ্যানেলের টক-শোতে অংশ নিয়েছিলেন আইন উপদেষ্টা। সেখানেই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ। তখনই আসিফ নজরুল বলেন, আমাদের যে সেনাপ্রধান আছেন, ওনার একটা ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে। এটা কারও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা উচিত না। উনি শেখ হাসিনার নিয়োজিত সেনাপ্রধান ছিলেন। উনি শেখ হাসিনার আত্মীয় ছিলেন। এরকম একটা সময়ে মানুষ নানা কথা বলছে তাকে ছোট করার জন্য। এক কথা দু কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন, আমার বিষয়েও অনেকে বলেন, আপনি নাকি ভারতের দালাল। আমি কি ভারতের দালাল! তিনি এটাও বলেন, ড. ইউনূস স্যারকে ছোট করছে না? জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে ওনার প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না? এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই আসিফ নজরুল সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, উইথ ডিও রেসপেক্ট টু ওয়াকার ভাই, ইনক্লুসিভ ইলেকশন নিয়ে কথা না বলাই ভালো।
সেনাপ্রধান সম্পর্কে আসিফ নজরুলের আত্ম উপলব্ধি, আমার সঙ্গে দেখা হলেই উনি দুটি বিষয়ে বলতেন, একটা হল দেশে যেন প্রয়োজনীয় কিছু সংস্কার করা হয়, আরেকটি হচ্ছে, দেশ যেন আনস্টাবল না হয়ে যায়। এর জন্য তিনি দ্রুত নির্বাচনের কথা বলতেন। সেনাপ্রধান প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, ওনার একটা আশঙ্কা, ইলেকশন যত দেরি হবে তত দেশের মধ্যে চক্রান্ত ষড়যন্ত্র হতে পারে। সবমিলিয়ে এটা বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে একটা দুরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে, আসিফ নজরুলের মন্তব্যেই তা স্পষ্ট হল।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সেনাপ্রধান প্রসঙ্গে আসিফ নজরুলের মন্তব্যকে নানা ভাবে ব্যাখ্যা করছেন। যেমন ওই টক শোতে আসিফ নজরুল নিজেই স্বীকার করেছেন যে জেনারেল ওয়াকার এই গণঅভ্যুত্থানের সময় একাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি এই অভ্যুত্থানের এক সমর্থকও বটে। সেটা যদি হয়, তাহলে একজন স্টেক হোল্ডার হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে জেনারেল ওয়াকার চিন্তিত হতেই পারেন, তিনি দ্রুত নির্বাচন চাইতেই পারেন। এর জন্য আসিফ নজরুলদের কেন সমস্যা হবে? আসলে সমস্যাটা হচ্ছে অন্য জায়গায়, নির্বাচন হলেই তাঁদের সরে যেতে হবে। কারণ আসিফ নজরুলরা ভোটে জিতে এই পদে আসেননি। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, আসিফ নজরুলেরই এই বিষয়ে কথা বলা উচিৎ নয়, কারণ তিনি জনপ্রতিনিধি নন, অবৈধ সরকারের এক অবৈধ উপদেষ্টা। অপরদিকে সেনাপ্রধান পদটি সাংবিধানিক। কেউ কেউ এটাও দাবি করছেন, আসিফ নজরুলরা টের পাচ্ছেন যে তাঁদের সামনে একটা কঠিন সময় আসতে চলেছে। যে বা যারা তাঁদের এই ক্ষমতার কেন্দ্রে এনে বসিয়েছিলেন, তাঁরা এবার মাথার উপর থেকে সরে যাচ্ছেন। ফলে সেফ এগজিট নিয়ে এখন চিন্তায় উপদেষ্টারা। তাই সেনাপ্রধানকে তাঁরা ভয় পাচ্ছেন। কারণ সেনাপ্রধান বারবার একটা দাবি করে আসছেন, দ্রুত ভোট হোক বাংলাদেশে, আর সেই ভোট যেন ইনক্লুশিভ বা অন্তর্ভূক্তিমূলক হয়। অর্থাৎ, আওয়ামী লীগকেও নির্বাচনে নিতে হবে। এটাই এখন মূল মাথাব্যাথার কারণ ইউনূস-আসিফ নজরুলদের।












Discussion about this post