বাংলাদেশে পোস্টারে পোস্টারে ছয়লাপ। পোস্টারে লেখা এনসিপিকে খুঁজে দিতে পারলে মিলবে মোটা টাকার পুরস্কার। এই কদিন আগে দলের নেতাদের গলায় জোর ছিল। তদারকি সরকারকে তারা কম হুমকি ধমকি দেয়নি। অনেকদিন ধরেই তাদের কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে রাজশাহী জেলার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা জসিমুদ্দিন ছাগল চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। বোঝো কাণ্ড। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অনেকে পরবর্তীকালে তদারকি সরকারে সামিল হন। তাদের দলে এমন একজন নেতাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যার বিরুদ্ধে একটাও মামলা নেই। সেই সব মামলাও আবার যেমন তেমন মামলা নয়। যাকে বলে রাজকীয় মামলা। এখন এও শোনা যাচ্ছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টাকা খরচ করে নামানো হয়েছিল তৃতীয় লিঙ্গদের। তৈরি করল এনসিপি। মাথায় বসলেন মহম্মদ ইউনূস। এখন এনসিপি কোথায়? নির্বাচন নিয়েও তারা কম হুমকি দেয়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে তাদের ডেকে পাঠায়। জানিয়ে দেয়, নির্বাচনে তারা যদি পারে বড় কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করে দু-একটা আসন জোগাড় করতে পারে। দলের একটা অংশ এই পরামর্শ মেনে নিলেও দলের অপর গোষ্ঠী মার্কিন দূতাবাসের পরামর্শে তেলে বেগুনে জ্বলছে।
এই এনসিপিতে কিন্তু আমেরিকার চর রয়েছে। দলে এক তরুণী ডাক্তার রয়েছেন। তিনি আসলে আমেরিকার দালাল। আমেরিকা যা বলে, তিনি তাঁর বিরোধিতা করেন না। কিছুদিন আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে তাকে দেখা গিয়েছিল দলের সদর দফতরে ফুল নিয়ে গিয়েছিলেন শুভেচ্ছা জানাতে। এদিকে আবার জামায়াত হুমকি দিচ্ছে। তারা বলছে ভোট করাতে হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নীতিতে। তারা সংবিধান বাতিলের ডাক দিয়েছে। কিন্তু গর্জনে তেমন আর জোর নেই। ইউনূস আবার ঘন ঘন পাল্টি খান। কখনও জামাতের দিকে, কখনও বিএনপির দিকে।
এনসিপি এখন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা দিল্লির আনুকূল্য চায়। হাইকমিশন থেকে বিষয়টি দিল্লিকে জানানো হয়েছে। দিল্লি আবার র-কে জানিয়েছে। কোনওপক্ষই পাত্তা দেয়নি। তারা তখন প্ল্যান বি-য়ের চিন্তা ভাবনা শুরু করে। এবার তারা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে দিল্লি ও কলকাতায় বৈঠকে বসার ইচ্ছা প্রকাশ করে। সেখানেও তারা ব্যর্থ। তখন তারা হারিয়ে যাওয়া ছাত্র লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে। যে আওয়ামী লীগকে গালি না দিলে পেটের ভাত হজম হত না, সময়-অসময়ে যে দিল্লির বাপ-বাপন্ত করতে সেই দিল্লির অনুগ্রহ পেতে হাতে ভিক্ষার থালা নিয়ে ঘোরাঘুরি করছে। লাভ কিছুই হয়নি। ছাত্র লীগের অবশ্য কিছু করার নেই। তারা শুনে হাসছে। আসলে বাংলাদেশে কিংস পার্টির নেতাদের গত কয়েক বছর ধরে ভাত জুটছে না।
এনসিপির পারলে হাসিনার সঙ্গেও কথা বলতে চায়। তারা ইনক্লাব মঞ্চের সঙ্গে যোগাযোগ করে। উদ্দেশ্য আওয়ামী লিগের সঙ্গে বৈঠক করা। আসলে এনসিপি বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশে হাওয়া মোরগের ঝুঁটি ঘুরে গিয়েছে। এখন কোনওক্রমে কারও ঘাড়ে না চাপলে আর হবে না। কিন্তু এনসিপিকে বসার জন্য কে আর ঘাঁড় এগিয়ে দেবে।
গত শুক্রবার এনসিপির নির্বাহী কমিটির সভা বসে। সেই সভায় দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। গণঅধিকার এবং এবি পার্টিও বৈঠকে ছিল। তারাও এনসিপির মতো জামায়াতের আন্দোলনে যোগ দেয়নি।












Discussion about this post