বাংলায় একটি প্রবাদ আছে – ‘আসলে মুষল নাই, ঢেকি ঘরে চাঁদোয়া’। মানে, বাইরে বাবুগিরি ভিতরে অন্তসারশূ্ন্য।
বাংলাদেশে ভোট আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রান্ত থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই সরকারের বিদায় শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। বাংলাদেশের তদারকি সরকারের বৈধতা অনেক আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। সেই সরকার আবার বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল সংশোধন করেছে। সরকার নতুন একটি আইন তৈরি করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে পুলিশে মামলা থাকলে সে ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না।
গত ৪ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আরও একটি সংশোধনী এনেছিল। যে সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকবে, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এমনকী সরকারি কোনও পদ দখল করতে পারবে না। হাসিনা পরবর্তী সময়ে এই ট্রাইব্যুনাল কর্মপদ্ধতি নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ নিশ্চিত ছিল এই ট্রাইব্যুনাল আসলে ইউনূস রাজনৈতিক সুবিধো ভোগের একটা মঞ্চ। একই কথা বলছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ডিপ্লোম্যাট। পত্রিকা এই নিয়ে তারা তাদের পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পত্রিকাও এই ট্রাইব্যুনালের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আসলে ইউনূস এখন চাইছেন এই ট্রাইব্যুনালের সাহায্যে হাসিনা এবং তাঁর দলের লোককে দমিয়ে রাখতে। এমনিতে তদারকি সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাদের দলের কার্যক্রমের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। যদিও এত কিছু করেও লাভ কিছু হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ এখন যেখানে সেখানে মিটিং করছে। পুলিশ প্রথম দিকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার অবশ্য করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করে। পরবর্তী কালে সেটা সরকার প্রশাসনের কাছে ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে আসায় ইউনূসের হার্মাদ বাহিনীর আর সাহসে কুলোয়নি। এবার তাই, ঘুরিয়ে নাক দেখানোর ব্যবস্থা করছে।
হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তাঁর এবং তাঁর দলের ৪৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। চলতি বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এর পর তৃতীয়বার এপ্রিলে। হাসিনা এবং তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগে মামলা রুজু করে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। অন্য মামলাটি হয়েছে মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।
গত জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, দলের ক্যাডার ও সরকাররের ‘দলদাস’ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত করার অভিযোগে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ সব অপরাধের বিচার চলছে।
এদিকে, চব্বিশের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যূত শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় সাক্ষী জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি দ্রুত ন্যায় বিচার পাব। জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা, তাঁর দল এবং তৎকালীন সরকারের যে নৃশংসতা ছাত্র-জনতার ওপর হয়েছিল অভ্যুত্থান পরবর্তীতে আমাদের দাবি ছিল, এই বিচারপ্রক্রিয়া যথাসময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। আমাদের আশা, দ্রুত এবং সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার পাব। এই মামলায় আমিই হয়তো শেষ সাক্ষী। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post