বাংলাদেশের সেনাপ্রধান কি এখন আর নিজেকে রহস্যের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে পারছেন? এই ধরণের প্রশ্ন করলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কি উত্তর দেবেন। হয়তো প্রশ্নটি আরও সহজ করে বোঝানো প্রয়োজন। প্রথম দিকে সেনাপ্রধানের ভুমিকা ছিল, ধরি মাছ না ছুঁই পানি। অর্থাৎ তিনিই যে এই গনঅভুত্থানের পিছনে মুল ব্যক্তি, তা আমেরিকা ছাড়া আর কেউ জানত কি? উত্তর হল না আর কেউ জানত না। কারণ সেনাপ্রধান সিআইএ এজেন্ট এটি সবাই জেনে গেলে, সেনাপ্রধানের নাটক কেউ বিশ্বাস করত না। বা অন্যদের পক্ষ্যে এই নাটকে সামিল হওয়া সম্ভব হত না। ৫ই আগস্টের পর যেভাবে তিনি বললেন আমি সব দায়িত্ব নিচ্ছি, তা দেখে সবাই আশ্বস্ত হলেন, ভাবলেন, দেশপ্রেমী সেনাপ্রধান যখন দায়িত্ব নিচ্ছেন, তখন সবাই সুরক্ষিত থাকবেন। কিন্তু বাস্তবে কি ঘটেছে তা সবার জানা।তিনি এই নাটক না করলে এই অভ্যুত্থানটি এত সহজে ঘটানো সম্ভব হত না। বা অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আওয়মীলীগকে এই ভাবে দাবিয়ে রাখা সম্ভব হত না।আর তিনি যে এতদিন নিজেকে রহস্যের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছেন সেটিও পারতেন না। এই যে মাঝে মাঝে ছাত্রদের সঙ্গে অথবা ইউনূসের সঙ্গে তার যুদ্ধ যুদ্ধ খেলাচলছে, সেটিও এত নিখুঁত ভাবে অভিনয় করা সম্ভব হত না। জানি এখনও যারা সেনাপ্রধানকে বিশ্বাস করেন তারা হয়তো কষ্ট পাবেন অথবা ভেঙে পড়বেন, কিন্তু আপনারা এমন একটি ঘটনার কথা বলুন যেটি দেখে আপনাদের বিশ্বাস হয়েছে যে সেনাপ্রধান দেশপ্রেমী মানুষ। তিনি দেশের ভালো চাইছেন।দেশের ভালো চেয়ে কোন ব্যবস্থা বা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যারা লীগ পন্থি নন তারা বলবেন হাসিনা অনেক অন্যায় করেছে। হাসিনা স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিস্ট ছিলেন। যারা এই কথা বলেন তারা বলতে পারবেন তারা হাসিনাকে কি আল্লাহর দূত মনে করতেন, নাকি সাধারণ একজন মানুষ। তিনি হলেন একজন সাধারণ মানুষ, যিনি চাইবেন তার দল এবং দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে।
তাই বলে তো তিনি সব মানুষকে তুষ্ট করতে পারবেন না। কিন্তু হাসিনার থেকে কি এমন আলাদা কিছু করছে এই বর্তমান সরকার। যে কারণে এটা প্রমান হয় যে হাসিনা এই সরকারের থেকে খারাপ ছিলেন। আসলে হাসিনা বাংলাদেশের খারাপ করেনি, তিনি যে ভুলটা করেছেন সেটি হল আমেরিকার মত শক্তিশালী দেশকে পাত্তা দেননি, নিজে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না জেনেও। কিন্তু এর জন্য যে ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন সেটি মুজিব কন্যা ছাড়া আর কারো আছে কি? এতদিনে এই সরকার ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তির লাইন তুলে ধরে বলতে পেরেছেন, হাসিনা ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। বা বাংলাদেশের সার্বোভৌমত্ব নষ্ট করেছেন। তাহলে আপনারা সরকারে এসেই সেগুলি বাতিল করলেন না কেন। হাসিনা ৫শো টন ইলিশ ভারতে পাঠালে আপনারা পাঠাচ্ছেন ১২শো টন। কিন্তু হাসিনার বিরুদ্ধে কত সমালোচনা হয়েছে তখন। আদানির বিদ্যুত নিয়ে আপনারা এত কথা বলেন এখনও তো আপনারা অন্য ব্যবস্থা করতে পারেন নি। উল্টে আপনাদের হাইকোর্ট বলছে এই চুক্তিতে কোন অস্বচ্ছতা নেই, বরং এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য লাভ জনক চুক্তি। হাসিনা যা কিছু ভারতের সঙ্গে করেছেন তা সবই দুই দেশের স্বার্থ বজায় রেখে। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি করারও বোধায় কোন প্রয়োজন নেই, তাই আমেরিকা এখন বাংলাদেশে যা খুশি তাই করতে পারে, কোন চুক্তি ছাড়াই। এবং করছেও তাই। এই যে বারা বার যৌথভাবে সামরিক মহড়া হচ্ছে আমেরিকার সঙ্গে, যে কোন বন্দর বা দ্বীপ তাদের দখলে নিয়ে নিচ্ছে, এগুলিই তো হাসিনার সয়মে পারেনি আমেরিকা, তাই তো তার সরকার পতন হল। আর এই সব নিপুন ভাবে সম্পন্ন করে চলেছেন সেনাপ্রধান। তিনি একদিকে আমেরিকাকে সামরিকভাবে জায়গা দিয়ে চলেছেন এবং জামাতকে দেশের আমলাতন্ত্রটির দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশ আজ যে জায়গায় তার দায় এবং দায়িত্ব শুধু মাত্র সেনাপ্রধানের। তবে আমেরিকা এখনও বাংলাদেশকে পুরোপুরি দখল করতে পারেনি, এবং জামাত এখনও বাংলাদেশে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, তা শুধু সেই দেশে মুক্তি যুদ্ধের চেতনা বেঁচে আছে বলে।












Discussion about this post