অস্থির বাংলাদেশে নতুন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইউনূস সরকার গোপন একটি রিপোর্ট পেয়েছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে পদ্মার অপর পারে বৃহত্তর খুলনা, বৃহত্তর বরিশাল, বৃহত্তর ফরিদপুরে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়েছে। এই রিপোর্টে সরকার এবং সরকার প্রধান ইউনূস ভয়াবহ বিপদে পড়েছেন। ওই সব এলাকায় প্রশাসনকে দিয়ে কিছুই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তদারকি সরকারকে নিয়ে জনমানসে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ক্ষোভ আগামীদিনে আরও বড় আকার ধারণ করবে। ইউনূস সরকারকে পৃথকভাবে রিপোর্ট দিয়েছে এনএসআই, পুলিশ এবং ডিজিএফআই থেকে সরকারকে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ১৯টি জেলার ম্যাজিস্ট্রেট থেকেও ইউনূস সরকারকে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি রিপোর্টের বক্তব্য একই, ওই সব জেলায় প্রশাসন ভেঙে পড়েছে। কোনওভাবেই জনবিক্ষোভ দমন করা সম্ভব নয়। পুলিশের এসবি থেকেও ইউনূস সরকারকে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। গোপালগঞ্জে এনসিপি বৈঠক করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। সেই উত্তেজনা এখন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে ইউনূস সরকার রীতিমতো ভয়ে কাঁপছে। ইউনূস সরকারের একাধিক উপদেষ্টাও তদারকি সরকারের প্রধানের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। তারাও বলছেন, পরিস্থিতি একেবারে হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে।
টিভিতে একটি আলোচনায় সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জিল্লুর রহমানকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে সুযোগ পেলে তারা ছাড়খাড় হয়ে যাবেন। তাঁরা দাঁড়াতেই পারবে না। অন্ধ আওয়ামী লীগের অজস্র সমর্থক আছেন। আগে তারা বলতেন, আওয়ামী লীগকে কেউ ভোট দেবে না। আওয়ামী লীগ ভোটে কারচুপি করে বছরের পর বছর ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। এখন কিন্তু সেই পরিস্থিতি আর নেই।
আসল ঘটনা সেটা নয়। বিএনপি, এনসিপি এবং তাদের মিত্র দলগুলির মধ্যে একটা ঘোট পাকিয়ে দিয়ে তারা ক্ষমতায় বসে থাকুক। আর আওয়ামী লীগের ভয় দেখিয়ে তাদের মুখে একজোট হওয়ার কথা বলছে। আর উলটো দিকে তারা আরও কিছুদিন ক্ষমতায় থেকে অবাধে লুঠপাঠ করতে চায়। আর সাজানো বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাদের সাজা দিয়ে জেলে ঢোকাতে চায়।
আসলে এদের কোনও ধারণা নেই। বঙ্গবন্ধুকেও তো মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই মৃত্যুদণ্ড কোনওদিন কার্যকর করতে পারেনি। ১/১১-য়ের সময় হাসিনাকেও টার্গেট করা হয়েছিল। পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের ধারণা ভাঙতে চেয়েছিল। পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। লন্ডনে স্মরণাতীত কালে দুটি ইউনূস বিরোধী সমাবেশ হয়েছে। সেই সমাবেশ থেকে দুটি দাবি ওঠে – হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও ইউনূসের পদত্যাগ। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে তদারকি সরকারকে একটি রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টে পরিষ্কার বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অতীতে ইউনূস বিরোধী এমন সমাবেশ চোখে পড়েনি। এমনকী লন্ডনের রাজনৈতিক ইতিহাসেও এই ধরনের বিশাল সমাবেশ দেখা যায়নি। এই সমাবেশে যারা অংশ নিয়েছিলেন, তাদের জন্য আওয়ামী লীগকে টাকা খরচ করতে হয়নি। মানে ঘুষ দিতে হয়নি। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। এমনকী লন্ডনের বাসিন্দারাও মিছিল সমর্থন করে। প্রবাসীরাও প্রচন্ডভাবে ক্ষুব্ধ। এই এক বছরে ইউনূস সরকার এমন কিছু করে দেখাতে পারেনি, যা দেখে দেশবাসীর মনে হতে পারে তারা হাসিনার বিকল্প। যারা একসময় শেখ হাসিনার সমালোচনা করতেন, তারাও এখন বলছেন শেখ হাসিনার বিকল্প কিছু হতে পারে না। বাংলাদেশ যদি শাসন করার ক্ষমতা কারও থাকে, তাহলে তিনি হাসিনা।
পুলিশও হাত গুটিয়ে নিয়েছে। তারা সরকারের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করতে নারাজ।












Discussion about this post