মহাফ্যাসাদে পড়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার কমিশন হাসিনার ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। আর সেইদিন প্রথম আলো টিউলিপ রিজিওয়ানা সিদ্দিককে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছে। ওই পত্রিকা এবং ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস গোপনে তদন্ত করে দেখেছে টিউলিপ সিদ্দিকের নামে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র। তিনি এখানকার ভোটার। বাংলাদেশের পাসপোর্টও রয়েছে তাঁর কাছে। নথিপত্রে দেখা গিয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিকের নামে জাতীয় পরিচয়পত্র হয় ২০১১ সালে। সেখানকার নথি অনুযায়ী, তিনি ঢাকার ধানমন্ডির ৫ নম্বর সড়কের যে ঠিকানা ব্যবহার করেছেন সেটা শেখ হাসিনার বাসা সুধা সদন। বাবার নাম শফিক আহমেদ সিদ্দিক, মা রেহানা সিদ্দিক। সিদ্দিকের জন্ম ১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। সেই হিসেবে তাঁর বয়স এখন ৪৩ বছর।
এনআইডিতে টিউলিপের পেশা উল্লেখ করা হয়েছে ‘বেসরকারি চাকরি’। জন্মস্থান ঢাকা। ভোটার এলাকা ধানমন্ডী (সড়ক ৩-৫)। তাঁর এনআইডির তথ্যে ট্যাগ হিসেবে আছে মাইগ্রেটেড বা অভিবাসী। নির্বাচন কমিশনের অধীন এনআইডি সার্ভারে টিউলিপের বাংলাদেশি পাসপোর্টের নম্বরও উল্লেখ রয়েছে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তথ্য বলছে টিউলিপের নামে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল ১৯ বছর। পাসপোর্ট ইস্যু করেছিল লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন। ওই পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০১১ সালে দ্বিতীয়বার পাসপোর্টের জন্য টিউলিপ আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে পরবর্তী পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন টিউলিপ। এরপর তাঁর নামে দ্বিতীয়বার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।
এই ব্যাপারে টিউলিপের বক্তব্য শুনে নেওয়া যাক। টিউলিপ প্রথম থেকেই বলে এসেছেন তিনি ব্রিটেনের নাগরিক। ২০১৭ সালে ব্রিটেনের সাংবাদিকেরা একবার তাঁর কাছে জানতে চান, তিনি কি বাংলাদেশের আটক এক ব্রিটিশ প্রশিক্ষিত আইনজীবীর মামলায় হস্তক্ষেপ করবেন ? প্রশ্ন শুনে মেজাজ হারান টিউলিপ সিদ্দিক। বলেন, ‘আপনি কি আমাকে বাংলাদেশি বলছেন? আমি ব্রিটিশ, সাবধানে বলুন… আমি ব্রিটিশ এমপি… আমি বাংলাদেশি নই।’ গত ১২অগাস্ট ব্রিটেনের ফিনান্সিয়াল টাইমসকে টিউলিপ সিদ্দিকের আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্টিফেনসন হাউউডের মুখপাত্র বলেন,‘টিউলপি কখনও বাংলাদেশি পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি পাননি এবং শৈশবের পর থেকে কোনও পাসপোর্ট রাখেননি। ’
চলতি বছরের শুরুর দিকে খবর পাওয়া যায়, টিউলিপ লন্ডনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক ব্যক্তির দেওয়া বাড়িতে রয়েছেন। প্রথম তিনি দাবি করেছিলেন লন্ডনে কিংস ক্রসে ছয় লক্ষ ৫০ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। সেটি তাঁকে দিয়েছেন তাঁর বাবা-মা। অন্তত তেমনই দাবি টিউলিপের। যদিও গোপন খবর হল ওই ফ্ল্যাট কেনার জন্য তাঁকে অর্থ দিয়েছিল আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালিফ। বাংলাদেশে যাদের পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে, তারা বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন। টিউলিপ ব্রিটেনে জন্মগ্রহণ করলেও তারা বাবা-মা উভয়েই বাংলাদেশের জন্মেছেন। তাই, তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের নাগরিক। কারণ, উভয় দেশ দ্বৈত নাগরিকত্বকে স্বীকৃতি দেয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক হতে গেল শপথ নিতে হয়। সেই সঙ্গে আগে যে দেশের নাগরিকত্ব ছিল, সেটি ত্যাগ করতে হয়। কিন্তু যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারে আলাদা। সে দেশের নাগরিক হতে গেলে শপথ নিতে হয় না। তাই, নিজের দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার দরকার হয় না। বাংলাদেশ সরকারের বিধি অনুযায়ী, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনও নাগরিক সে দেশের প্রতি আনুগত্য প্রত্যাহার না করেন, ততদিন পর্যন্ত তাঁর সেই দেশের নাগরিকত্ব থাকবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post