লজ্জা না বলে লজ্জাসকর বলাই ভালো। বাংলাদেশকে লজ্জা দিল নেপাল।
প্রথম লজ্জা সে দেশে এমন একজনকে তদারকি সরকারের প্রধান করা হয়েছে, যিনি অর্থনীতিকে ধোঁকাবাজিতে কাজে লাগিয়েছেন। বোঝাই যাচ্ছে কার কথা বলা হয়েছে। ভদ্রলোকের নাম (আদৌ ভদ্রলোক কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।) মহম্মদ ইউনূস। যারা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোক্ষ দেখাচ্ছেন, তাদের গ্রেফতার করে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। ভোট কবে হবে তানিয়ে যখন বাংলাদেশের নানা মহল প্রশ্ন তুলতে শুরু করে, সেই সময় প্রবল চাপে পড়ে যান ইউনূস। একপ্রকার বাধ্যে হয়ে ভোটের ঘোষণা করেন। বলেন, ফেব্রুয়ারিতে ভোট। যদিও ফেব্রুয়ারির কোন তারিখে, তা কিন্তু এখনও জানা যায়নি।
এবার ইউনূস গজঝম্প ছন্দে নতুন গান বেঁধেছেন। সেটা হল তলে তলে ভোট বানচাল করার একটা চেষ্টা চলছে। কোনও একটি গোষ্ঠী নাকি ভোট বানচালের নীল নকসাও তৈরি করে ফেলেছে।
আর নেপাল হাঁটল ঠিক উলটো পথে। সে দেশের জেন-জি রা এমন একজনকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করেছেন, যার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই। সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধানবিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান পদে আসীন করেছেন। সুশীলা কার্কি জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৫ মার্চ সেখানে নির্বাচন। নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে জেন জি রা। বর্তমানে নেপাল সংবিধানের চার নম্বর ধারার দুই উপধারায় বলা হয়েছে, ১৯৭৩ সালের ভোটার নথিভুক্ত আইন অনুসারে, নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণার পর কেউ আর নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন না।
তদারকি সরকার সেই আইনের সংশোধন করতে প্রস্তুত। সে দেশের কার্যনির্বাহী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাম প্রসাদ ভাণ্ডারী জানিয়েছেন, ‘জেন জি-রা যাতে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে ব্যাপারে তদারকি সরকারের সঙ্গে কথা চলছে। সরকার এই বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করবে। আমি যতটুকু জানি, সেটা খুব দ্রুত জারি হবে।’
শেষবার নেপালের সাধারণ নির্বাচনে নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করেছিলেন ১৭, ৯৮৮, ৫৭০। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯, ১৪০, ৮০৬। মহিলা ভোটার ছিলেন ৮, ৮৪৭, ৫৭৯। অন্যান্য শ্রেণির ভোটার ছিলেন ১৮৫ জন। ২০২৫-য়ের এপ্রিলে নেপালে মোট ভোটারের সংখ্যা বেডে হয়েছে ১৮, ১৪৮, ৬৫৪। নেপালে ১৬ বছর হলেই পাওয়া যায় সে দেশের নাগরিকত্ব। তবে ভোট দানের অধিকার মেলে ১৮ বছর হলে।
বাংলাদেশের থেকে আকার আয়তনে নেপাল খুবই ছোট। কিন্তু মানসিকতার দিক থেকে তারা যে বাংলাদেশের থেকে অনেক এগিয়ে সেটা একের পর এক ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান চাইছেন, ক্ষমতার ইলাস্টিক যতটা টেনে লম্বা করা যায়। তাহলে তো লাভই লাভ। আর নেপালের তদারকি সরকার প্রধান চাইছেন ভোট করিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে। তাই, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরে পরেই ভোটের দিন তারিখ জানিয়ে দেন। দেশবাসী তথা বিশ্ববাসীর কাছে বার্তা দেন, তিনি ক্ষমতা লোভী নন। একটি প্রজন্ম তাকে সাময়িক সময়ের জন্য দেশ শাসনের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। তিনি সাময়িক সময়ের জন্যই থাকবেন। তাই, মন্ত্রিসভা না করলেই নয় বলে একটা ছোটখাটো মন্ত্রিসভা তৈরি করেছেন। নির্বাচনের আগে আগের সরকারের ফেলে রাখা কাজ দ্রুত শেষ করাই তাঁর মন্ত্রিসভার একমাত্র লক্ষ্য।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post