ভোটের মাস যত এগিয়ে আসছে, ততই বাংলাদেশের রাজনীতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। গোলকধাঁধার প্যাঁচে আটকে যাচ্ছে রাজনীতি। সেই গোলকধাঁধায় বড় ফ্যাক্টর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা আওয়ামী লিগ। দলটির তৎপরতায় সরকার, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপিকে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। তাদের জন্য আওয়ামী লীগ ভিন্ন ভিন্ন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের কাছে জমা পড়েছে গোয়েন্দা রিপোর্ট। সেটা দেখে উদ্বেগে বেড়েছে আরও কয়েকগুণ। আগে আওয়ামী লীগের তৎপরতা শুধু দেশের মধ্যে সীমাব্ধ ছিল। সেই গণ্ডী অনেক আগেই তারা অতিক্রম করেছে। এখন বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা তাদের কর্মীরা ইউনূস সরকারের পতন চেয়ে রাজপথে নেমেছে। অন্যদিকে, জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা করবেন। তাঁর সফরসঙ্গী হচ্ছে চার নেতা। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।
প্রধান উপদেষ্টার বিদেশ সফরের খবর দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো তৌহিদ হোসেন। ইউনূস ভাষণ দেবেন ২৬ সেপ্টেম্বর। দেশে ফিরবেন ২ অক্টোবর। সফর যে বেশ লম্বা তা তারিখ দেখে বোঝাই যাচ্ছে। এটাও বোঝা যাচ্ছে যে শুধু জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন। সফরে তিনি যাদের নিয়ে যাচ্ছেন, তাদের নিয়ে যাওয়ার কারণ রয়েছে। বিদেশের মাটিতে গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি পড়তে হয়ে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে। ইউনূসের কোনও ইচ্ছা নেই এই রকম কোনও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার। তাহলে জাতিসঙ্ঘে তার মান-সম্মান সব যাবে। একা ইউনুস নয়, আওয়ামী লীগকে নিয়ে চিন্তা বেড়েছে বিএনপিরও। জাকসু ও ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের জয়ের পিছনে আওয়ামী লীগের গোপন সমর্থন রয়েছে বলে দল মনে করছে। আসন্ন নির্বাচনে একই ধরনের সমর্থন পেলে সব হিসেবে উলটে যাবে। শুধু তারা নয়, কিংস পার্টিও গোপন ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছে। তাই, শুরু থেকে একসঙ্গে পথ চললেও তারা জামাতের থেকে অনেকটাই দূরে চলে গিয়েছে। এটাই সরকারকে বেশ ভাবাচ্ছে। সরকারের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় ইউনূসের ওপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্রমেই তারা ক্রমেই প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে। যেটা ইউনূস এবং হাসিনা বিরোধীদলগুলি কোনওভাবে দমিয়ে রাখতে পারছে না। ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের কোর কমিটির একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের নেতৃত্ব দেন জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী। বৈঠকে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের পদস্থকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের তরফ থেকে পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আওয়ামী লীগ, তাদের ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরেও কী করে তারা রাজপথে মিছিল করছে? সভা করছে? পুলিশ ও গোয়েন্দারা কেন আগে থেকে খবর পাচ্ছে না? সরকারকে তারা বলে, আওয়ামী লীগের জনসমর্থন ক্রমেই বাড়ছে। আগামীদিনে সেটা আরও বাড়বে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে তারা বাধা দিচ্ছে না। এই কথা শুনে সরকারি কর্তাদের চোখ কপালে উঠে গিয়েছে।
পুলিশ যে কতটা অসহায়, সেটা একটি ঘটনা থেকে স্পষ্ট। রাজধানীর শ্যামলীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে আটক কয়েকজনকে ‘ককটেল ফাটিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া’ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।












Discussion about this post